প্রতীকী ছবি।
Published on
:
2 min read
গোরু দুধ কম দিচ্ছে, অভিযোগ জানাতে থানায় হাজির গো-পালক। এ দিকে এমন অভিযোগ শুনে তো কপালে হাত পুলিশের! কী করবেন, কী বা বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না আধিকারিক। সোমবার রাতে মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল থানায় এই ঘটনা ঘটে।
সে দিন রাতে থানায় হাজির হন মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপালের সনকাডাঙার বাসিন্দা লক্ষ্মণ যাদব। লক্ষ্মণ কৃষিকাজ করেন। একইসঙ্গে তিনি গো-পালক। গোরুর দুধ বিক্রি করেন বাড়ি বাড়ি। সটান ঢুকে পড়েন থানার ভিতরে। চোখের সামনে যে উর্দিধারীকে দেখতে পান, তাঁর সামনে হাত জোর করে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মণ বলেন, ‘স্যর গোরু কম দুধ দিচ্ছে। কিছু একটা ব্যবস্থা করুন।’ যা শুনে ‘স্যর’ তো পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান।
এক নজরে
থানায় গো-পালক: গোরু কম দুধ দিচ্ছে বলে অভিযোগ জানাতে গুড়গুড়িপাল থানায় হাজির হন লক্ষ্মণ যাদব।
গোরুর দাম ৩২ হাজার টাকা: প্রায় ১৫ দিন আগে উপরডাঙা গ্রামের এক বাসিন্দার কাছ থেকে অন্তঃসত্ত্বা গোরুটি কেনেন তিনি।
দুধ নিয়ে অভিযোগ: বিক্রেতার দাবি ছিল, গোরুটি দিনে ৮-১০ লিটার দুধ দেয়। কিন্তু প্রসবের পর সেটি মাত্র ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে বলে অভিযোগ লক্ষ্মণের।
পুলিশের মধ্যস্থতা: অভিযোগ শুনে গোরুর বিক্রেতাকে থানায় ডেকে দু’পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দেয় পুলিশ।
শেষে ২ হাজার টাকা ফেরত: আলোচনার পর লক্ষ্মণকে ২ হাজার টাকা ফেরত দিতে রাজি হন বিক্রেতা। সেই টাকা হাতে পেয়ে থানা ছাড়েন গো-পালক।
থানায় সাধারণত চুরি, ছিনতাই, নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ আসে। কিন্তু গোরু কম দুধ দিচ্ছে বলে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেই না! পুলিশ প্রথমে থ হয়ে গেলেও পরে লক্ষ্মণের কাছে সবটা জানতে চান।
লক্ষ্মণ জানান, দিন ১৫ আগে সদর ব্লকের উপরডাঙা গ্রামের এক বাসিন্দার কাছ থেকে একটি অন্তঃসত্ত্বা গোরু কেনেন তিনি। তার জন্য ৩২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। গোরু কেনার সময়ে বিক্রেতা জানিয়েছিলেন, দিনে ৮-১০ লিটার দুধ দেয়। কিন্তু প্রসবের পরে দেখা গিয়েছে ওই গোরু মাত্র ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে।
লক্ষ্মণ যাদব থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে বলেন, ‘গোরুটি বাড়িতে নিয়ে আসার পরে যে ভাবে যত্নে রাখতে হয় সে ভাবেই রেখেছি। গর্ভবতী গাভীকে যা যা খাবার দিতে হয় সেগুলো দিয়েছি। গোরু কেনার সময়ে বলা হয়েছিল ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ দেবে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি বড় জোর ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে। এর কিছু একটা বিহিত করুন।’
সে সময়ে থানায় যে আধিকারিক ছিলেন, তিনি প্রথমে চেষ্টা করেন বুঝিয়ে সুঝিয়ে লক্ষ্মণকে বাড়ি পাঠানোর। কে যেন ঠাট্টা করে বলে ওঠেন, ‘গোরু দুধ কম দিচ্ছে যখন, জল মিশিয়ে দিলেই তো হলো!’ সে সব মজার মধ্যেও লক্ষ্মণ প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখে বলতে থাকেন, ‘কিছু একটা করুন।’ থানা থেকে নড়তেই চাইছিলেন না।
পরিস্থিতি এমন হয়, পুলিশ ডেকে পাঠায় সেই গোরু বিক্রেতাকে। পুলিশ দু’পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেয়। আলোচনা করে গোরু বিক্রেতা জানান, লক্ষ্মণকে ২ হাজার টাকা ফেরত দেবেন। সেই টাকা হাতে পেয়ে অবশেষে থানা ছাড়েন লক্ষ্মণ। হাফ ছেড়ে বাঁচেন পুলিশও।