সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ছবি: ANI
Published on
:
2 min read
লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত জার্সি ওড়ানো এ বার আদালতে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবিকে খারিজ করে দুসরা (Doosra) সিনেমার মুক্তিতে কোনও ধরনের স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল দিল্লি হাইকোর্ট। ফলে শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। তবে মহারাজের দায়ের করা আবেদনের গুরুত্ব বিচার করে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শুক্রবার এই মামলার বিস্তারিত শুনানি অব্যাহত থাকবে।
জার্সি ওড়ানোর দৃশ্যে আপত্তি
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্মাতারা তাঁর পরিচয়, ক্রিকেট জীবন এবং অধিনায়কত্বের ঐতিহ্যকে সিনেমায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন অনুমতি না নিয়ে। বিশেষ করে, ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির সেই ফাইনালে ইংল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে লর্ডসের ঐতিহাসিক ব্যালকনিতে সৌরভের খালি গায়ে জার্সি ওড়ানোর দৃশ্য এবং ভারতীয় দলের রূপান্তরের মুহূর্তগুলোকে ফোকাস করা হয়েছে। সৌরভের দাবি, তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিত্ব, নাম ও এই ঐতিহাসিক ভাবমূর্তিকে চলচ্চিত্রে ব্যবহার করে নির্মাতারা তাঁর ‘পার্সোনালিটি ও কমার্শিয়াল রাইটস’ লঙ্ঘন করেছেন।
তবে বৃহস্পতিবার শুনানির সময় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি দীনেশ ভাট ছবিটির ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে রাজি হননি। বিচারপতি ভাট তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সিনেমা মুক্তিতে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং ছবির মুক্তি প্রক্রিয়া যেভাবে চলছিল সেভাবেই চলবে।’ আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, সিনেমাটি পূর্ব ঘোষণামতো দিনেই মুক্তি পাবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ অক্টোবর শুক্রবার।
২০০২ সালের ১৩ জুলাই লর্ডসের সেই জয় টিম ইন্ডিয়াকে নতুন করে লড়তে শিখিয়েছিল, সেই ম্যাচ দেখে অনেকে ক্রিকেটকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে সেলুলয়েডের পর্দায় ব্যবহারের অধিকার নির্মাতাদের কতটা রয়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে এই আইনি বিতর্ক।
সাম্প্রতিককালে ভারতে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনোদন দুনিয়ার সেলিব্রিটিদের নাম, গলার স্বর, ছবি কিংবা অঙ্গভঙ্গি যাতে অনুমতি ছাড়া কোনও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার না হয় তার জন্য শীর্ষ আদালত একাধিকবার রক্ষাকবচ দিয়েছে। কিন্তু ক্রীড়া সাফল্যকে সিনেমায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টা কোনদিকে যাচ্ছে সেই প্রশ্নটা রয়েছে।
