ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা-পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি ও ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিসহ মোট ২১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে নয়জনকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়িয়া এলাকায় ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে মাসুদ মিয়ার গ্যারেজের পেছনে মজিদ মিয়ার খালি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে জসিম মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম বজলু মিয়া।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের ভাঁজ করা স্টিলের সুইচ গিয়ার, ১৭ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার দা এবং ২০ ইঞ্চি লম্বা তিনটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
একই দিন রাত ৮টার দিকে সদর মডেল থানার আওতাধীন কাউতলী মোড়ে আরেকটি অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার তাহের মিয়ার ছেলে রিয়াদ মোর্শেদ ওরফে সাগর (৩২), নবীনগর উপজেলার কুরেঘর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জামাল মিয়া (৩৫) এবং মনিচান মিয়ার ছেলে ছগির মিয়া (৩৬)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের কাছ থেকে পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি, ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, লোহার তৈরি একটি চাইনিজ কুড়াল, লোহার হাতলযুক্ত দুটি দা এবং কাঠের হাতলযুক্ত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল।
এদিকে সদর মডেল থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম ও অভিযানে মোট ২১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিআর পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত চারজন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আটক পাঁচজন, নিয়মিত মামলার ছয়জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আটক তিনজন রয়েছেন।
এ ছাড়া শহরের কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়। পরে প্রত্যেকের অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সদর থানার পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এমএ
