দুর্গাপূজায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে ৫০০ পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেল নিয়ে দৃশ্যমান টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসআরবি প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসআরবির মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চসংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্থানে এসআরবির ডগ স্কোয়াড এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রয়োজনীয় তল্লাশি চালাচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জনের দিন অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, পূজার শেষ পর্যায়েও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এসআরবি সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
নাশকতা ও উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এসআরবি মহাপরিচালক বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার মনিটরিং ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা মোকাবিলায় এসআরবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
অনলাইনে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতেও নজরদারি চলছে বলে জানান তিনি। এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম ভার্চুয়াল জগতে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। কেউ মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে এসআরবি।
