Published on
:
1 min read
বাচ্চাদেরও ইন্টারনেট ব্যবহার করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। তাদের উপরে বয়স ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বলেছে, এই মৌলিক অধিকার খর্ব না করেই অনলাইনে যৌন হেনস্থার হাত থেকে শিশুদের বাঁচাতে আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার একে অপরের পরিপন্থী নয়। তাই ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা একেবারেই অযৌক্তিক। সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে বলেছে, বয়স-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চাপালে শিশুরা আরও বেশি করে অনিয়ন্ত্রিত এবং বিপজ্জনক ওয়েবসাইটের দিকে ঝুঁকতে পারে। তা ছাড়া, অনলাইনে কোনও প্রলোভন বা হুমকির শিকার হলে, নিষেধাজ্ঞা ভাঙার শাস্তির ভয়ে শিশুরা বাবা-মা বা অন্য কারও কাছে সেই ঘটনা জানাতে দ্বিধাবোধও করতে পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে এমন কনটেন্ট রয়েছে, যা শিশুদের যৌন নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কথা জানিয়ে শীর্ষ আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশও করেছে। এই বিষয়গুলির উপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যে সংস্থার রয়েছে, তাদেরও সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বলেছে, আপত্তিকর কনটেন্ট কোনও একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সেটি থেকে যায় দিনের পর দিন। এই ব্যবস্থা চলতে পারে না। অবিলম্বে তা বদলাতে হবে এবং আপত্তিকর কনটেন্ট যাতে সহজে চিহ্নিত করা যায়, তার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শিশুরা অনলাইনের নানাবিধ ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত, তা-ও নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে তারা বিষয়টি দ্রুত মা-বাবাকে জানাতে পারে।
