সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের দোস্তপাড়া গ্রামের সালেহা বেগমের বসবাসের ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছেঁড়া টিন ও পলিথিনের চাল দিয়ে ঘরে পানি পড়ে। কাদাপানিতে ভরে যায় মেঝে। এ কারণে বৃষ্টি হলে নিজের ঘর ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাঁকে।
প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর থেকে পুরোনো এই ঘরেই বসবাস করছেন সালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তিন মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। তবে মেয়েরা নিজ নিজ সংসারে আর্থিক সংকটে থাকায় মায়ের ঘর মেরামত বা নতুন ঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরটির মেঝের মাটি ইঁদুরে খুঁড়ে ফেলেছে। মাথার ওপরের চালও ছেঁড়াফাটা পলিথিনে ঢাকা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়। এতে স্বাভাবিকভাবে থাকা, ঘুমানো ও নামাজ আদায় করতেও সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সালেহা বেগমের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তবে তাঁদের পক্ষে স্থায়ীভাবে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে তাঁকে।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার মিয়া জানান, সালেহা বেগমের আবাসন সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসাইন জানান, সালেহা বেগমের বিষয়ে তাঁর দপ্তরের বক্তব্য ও সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সালেহা বেগমের জন্য একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁদের মতে, একটি নিরাপদ আবাসন তাঁর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে পারে।
