এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসায় রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে। তাই সংকটকে অনির্দিষ্টকাল ধরে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনের ইতিহাস রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘ব্যর্থ’ ত্রিপক্ষীয় (বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার) প্রক্রিয়ার বদলে বর্তমানে জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং অন্যান্য প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ দেশটির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি চীন, আসিয়ান ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া নয়। আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে বাস্তবেই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।’
