জানুয়ারি মাসেই গঙ্গাসাগর মেলা। সেই মেলার প্রস্তুতির জন্য এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর জনসভাও করেন তিনি। “গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক করতে এসেছি।” সেই বড় বার্তা সভামঞ্চ থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের বার্তা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি, চুরি হয়েছে। সেই অভিযোগও জোর গলায় করলেন শুভেন্দু।
এদিন কাকদ্বীপে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেখানে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সভা থেকে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন। সেখানেই শুভেন্দু বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তরিত করার জন্য এমরা এখানে এসেছি।” রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঙ্গাসাগর মেলা আয়োজন করতে চলেছে। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, এত বড় মেলা হলেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একে জাতীয় স্বীকৃতি দেয় না। তাহলে কি এবার পালাবদলে গঙ্গাসাগর কুম্ভমেলার সমতুল হবে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের পর সেই চর্চা বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে।
সুন্দরবনের ১৩টি ব্লকে উন্নয়ন হবে। সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের জন্য এই সরকার নজর দিচ্ছে। ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন। বিগত তৃণমূল সরকার উন্নয়নের নামে দুর্নীতি চালিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন। “উন্নয়নের থেকেও তৃণমূল কাটমানি নিয়েছে। ৬০০ কোটির মধ্যে ২০০ কোটি খরচ করেছিল গত রাজ্য সরকার খরচ করেছে।” সেই খোঁচা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুড়িগঙ্গায় সেতু তৈরি নিয়েও গত তৃণমূল সরকার ভুল কথা স্থানীয়দের বুঝিয়েছে, সেই অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৯ সালের মধ্যে মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন হবে। সেই বড় বার্তা এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন। আগামী ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করতে ফের শুভেন্দু অধিকারী কাকদ্বীপে আসবেন। সেই কথাও জোর গলায় এদিন জানিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সিএএ-তে বহু মানুষ আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও অনেকে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পাননি বলে অভিযোগ। সেই নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। অতি দ্রুত যাতে সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, জেলাশাসক, মহকুমা শাসকদের এদিন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
