দেশ থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর পালিয়ে যাওয়া অপরাধী ও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির আবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ দমনে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধী এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের রেড নোটিস ও বৈশ্বিক তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে ৪১ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির আবেদন পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছে।
তবে এই ৭ জন কারা এবং বাকি ৩৪টি আবেদনের বর্তমান অবস্থা কী, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।
আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা ও তথ্য বিনিময়ের কার্যক্রমও চলছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া মানবপাচার, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ সদরদপ্তরে গঠিত মানবপাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সেল এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয়তা যাচাই, নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে সারা দেশে মাদকের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
