‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’, বিখ্যাত এই কথাটা একটু ঘুরিয়েফিরিয়ে বলা যেতেই পারে, দল যার যার, পাড়ার পুজো সবার। তাই পাড়ার দুর্গাপুজো ঘিরে সব রাজনৈতিক দলের মিলনচিত্রের সাক্ষী রইল বীরভূমের সিউড়ির এক পুজোমণ্ডপ। উদ্বোধনী মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেল এলাকার তিন পরিচিত রাজনৈতিক নেতাকে। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সিপিএমের প্রাক্তন জোনাল সম্পাদক দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলর মণিদীপা মুখোপাধ্যায়। দেশবন্ধু পল্লির পুজোকে কেন্দ্র করে এই বিরল ছবি নিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে উদ্যোক্তা ও উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, পাড়ার উৎসবের সঙ্গে রাজনীতিকে মেলানো ঠিক নয়।
পুজোর সূচনায় সংস্কৃত মন্ত্র পাঠ করেন দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে নিজের ‘দাদা’র মতো বলে উল্লেখ করেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেবাশিসবাবু তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার পুজোর সূচনায় সংস্কৃত মন্ত্র পাঠ করেন দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে নিজের ‘দাদা’র মতো বলে উল্লেখ করেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেবাশিসবাবু তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী। ফলে উৎসবের মঞ্চে সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি উঠে আসে নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গও।
তবে পুজোয় একই মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে কোনও রাজনীতি দেখতে নারাজ বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন জোনাল সম্পাদক দেবাশিসবাবু। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মণিদীপা মুখোপাধ্যায়ও তাঁর প্রতিবেশী। দেশবন্ধু পল্লির পুজো এলাকার সকল বাসিন্দার উৎসব। তাই পাড়ার মানুষ হিসেবে তাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রধান অতিথি করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় তাঁরা খুশি বলেও জানান তিনি। গোটা বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছেন সিপিএমের প্রাক্তন এই নেতা।
অন্যদিকে, মণিদীপা মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রাপথও এই উপস্থিতিকে ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরসভা নির্বাচনে প্রথমে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। সম্প্রতি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মণিদীপা। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিধায়ক তথা মন্ত্রীর পাশে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও এ বিষয়ে কোনও পক্ষই আলাদা করে মন্তব্য করেনি। সবমিলিয়ে, পাড়ার পুজোর মঞ্চে তিন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষের উপস্থিতি সিউড়িতে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। উৎসব ঘিরে নিছকই সৌজন্য নাকি তার আড়ালে অন্য কোনও সমীকরণ দানা বাঁধছে, সেই উত্তর অবশ্য মেলেনি।
