মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তার ক্ষমতা ছাড়ার সময়সীমা জানিয়েছেন। এই বিষয়টি এখন চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। শনিবার ইজিপশিয়ান মিলিটারি একাডেমির এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মিডল ইস্ট আই এ খবর প্রকাশ করেছে। ৭১ বছর বয়সী সিসি বর্তমানে ছয় বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মিশরের সংবিধানে কোনো হাত দেয়া হবে না। ২০৩০ সালই হবে তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ সময়। তবে মিশর এমন যোগ্য মানুষের হাতে পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্র ছাড়বেন না, যারা দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিতে সক্ষম। মিলিটারি একাডেমি নতুন প্রজন্মের নেতা তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৩ সালে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সিসি। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, বর্তমানে মিশরের কারাগারগুলোতে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী। চিকিৎসায় অবহেলা এবং অমানবিক পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ বহু বিরোধী নেতার মৃত্যু হয়েছে। সিসির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চল এক উত্তাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া সুদানের সশস্ত্র বাহিনীকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছে কায়রো। সম্প্রতি সুদান-মিশর সীমান্তে একটি সোনার খনিতে মিশরের বিমান হামলায় ৭২ জন বেসামরিক শ্রমিক নিহত হন। অন্যদিকে লোহিত সাগরে নৌ-আধিপত্য এবং রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে ইথিওপিয়ার সঙ্গে মিশরের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সংঘাত বাড়লে সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে সম্প্রতি সুদান, সোমালিয়া এবং ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে কায়রোতে একটি সম্মেলনও করেছে সিসির সরকার।
