কুতুবদিয়া ও টেকনাফে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে ৫১ বসতঘর। এর মধ্যে কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল জেলে পাড়ায় আগুনে পুড়ে গেছে ৩৩টি বসতঘর। অপরদিকে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কায়ুকখালী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা বসতঘর পুড়ে গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতের আগে কুতুবদিয়ার জেলে পল্লীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ৬৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল জানান, হঠাৎ রাত ২টার দিকে দিদার জলদাসের বাড়িতে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতক্ষণে পুরো পাড়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের টীম ও এলাকাবাসি প্রায় ২ ঘন্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ততক্ষণে দিদার দাস, চন্দ্র সেন, ইমালুন্দ, সিংহজলদাস, প্রেমদাস, বিকল দাস, মধু রানী, সোহান দাস, সকাল দাস, মুরলী দাস, মুরপী দাস, জিসাস দাস, সরীপ দাস, রনী দাস, ধলু, সিধাম, রুবেল, মেঘদাস, দীপারানী, রূপাল দাস, সবুজ দাস, পবিরন দাস, বুইশ্যা, অজিত, শুনু দাস, কালাগুচু, বাবুল দাস, মুন্নাবরণ, টুট্টন দাস, ওরাসেন, রুবান দাস, সুধাংশু ও ভাবতীর বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
পবিরন দাসের স্ত্রী নয়ন দাস বলেন, তার পিত্তথলীর অপারেশনের জন্য ১ লাখ টাকা লোন করে রেখেছিলেন। নগদ টাকা, তার স্বামীর ডিগ্রির মূলসনদ সবই পুড়ে এখন নি: স্ব তারা।
কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সোহেল আহমেদ জানান, জেলে পাড়ায় ৩৩টি কাঁচাপাকা ঘর পুড়ে গেছে। ২টি টীমসহ এলাকাবাসি মিলে ২ ঘন্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চুলার বগুন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
আলী আকবর ডেইল ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার কামাল সিকদার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের এলাকা জেলে পাড়ায় তিনি রাতেই গিয়েছিলেন। এক লাইনে ও ঘনবসতির কারনে অন্তত ৩২-৩৩ টা ঘর পুড়ে গেছে। জরুরি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অপরদিকে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কায়ুকখালী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে ৮-১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড় চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাদের তৎপরতায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কায়ুকখালী পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ৯টা ৫১ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণ করা হয়।
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। আগুনে বাড়ির মালিক আবদুস সালামের ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ ও একটি নেলকুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহত হননি।
স্থানীয়রা জানান, ঘরগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের থাকার জায়গার পাশাপাশি কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রী, বিছানাপত্র, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা এসব পরিবার এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে।
