নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অপূর্বকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৬ অক্টোবর দুর্গাপুর থানায় আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত সাংবাদিকের স্বজনেরা জানান, পরিবারের একমাত্র ভরসাকে হারিয়ে তাঁরা দিশেহারা। বিশেষ করে দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বলেন, তাঁর স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, শনিবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সাংবাদিক আলীফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামি ও নেপথ্যের অর্থদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত সাংবাদিকের পরিবার ও সহকর্মীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিহত সাংবাদিকের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর পক্ষ থেকে পরিবারটিকে নগদ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা, শিশুদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক আলীফ ফকিরের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের দুরবস্থা ও স্বজনদের সহযোগিতার আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। পরে তাঁর পক্ষ থেকে এই সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা সহায়তার অর্থ ও সামগ্রী পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে নিহত আলীফ ফকিরের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
