প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ নিমার্ণ হলে রাজশাহীসহ ১৪ জেলার কৃষকরা সুবিধা পাবে। রাজশাহী কৃষি অঞ্চল এলাকা। এটা ভেবে বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (ঐতিহাসিক মাদ্রাসা) আখচাষীদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ ও জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন বিঘ্নিত করতে একটি বিশেষ দল কয়েকটি ছোট ছোট দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা করছে। আমরা যখন বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি, মা বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি, কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছি তখন একটি দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেওয়া এসব কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে যখনই তারা পেরেছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সরকার কৃষকদের কথা চিন্তা করে ৪০ লাখ কৃষি কার্ডের প্রস্তুতি নিয়েছে। যে কার্ডে কখন বৃষ্টি হবে, কখন হবে না। জমিতে কখন সার প্রয়োগ করতে হবে এমন ১০টি সুবিধা ওই কৃষি কার্ডে থাকবে।
সরকার প্রধান আরও বলেন, বিএনপি সরকার ২৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে সবাই গাছের ফলমুল খেতে ও ছায়ায় শান্তিতে থাকতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে এইচএসসি পর্যন্ত মেয়ের পড়াশোনা ফ্রী ছিলো। আমরা অনার্স পর্যন্ত ফ্রী করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যেনো মেয়েরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারেন। সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী, দেশের উন্নয়ন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ রইলো।
জনসভার রাজশাহী মহাগনর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক এমপি আবু সাঈদ চাঁদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে রাজশাহীর নগরীর মিয়াপাড়া এলাকা ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করে ১০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ধর্মসভায় গিয়ে বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় রাজশাহী ধর্মসভার সভাপতি বিশ্বনাথ সরকারের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষই এ দেশের নাগরিক। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তাই ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিককে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে একটি মডেল মন্দির নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ও মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে ধর্মসভা মন্দির এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। মণ্ডপটি পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহী থেকে তিনি চট্টগ্রামে যাবেন।
