স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালী জেলার বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন স্নেহাংশু সরকার (স্নেহাংশু সরকার কুট্টি)। তিনি ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সুত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক তাঁর দায়িত্ব ভার গ্রহণের পরেই তাঁর রাজনৈতিক সহচর মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান) কে তারই পিএস নিয়োগ করেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) বহাল রয়েছেন। এক সমীক্ষায় জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী (ps)পদ টি কোনো আইনসিদ্ধ বা অনুমোদিত পদ নয়, তাই এই পদের অনুকূলে যেকোনো ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ।
জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো (Organogram) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা বর্তমান পূর্ণকালীন প্রশাসকদের জন্য কোনো ব্যক্তিগত সহকারী (PS) পদের অস্তিত্ব বা আইনি কাজের সুযোগ রাখা হয়নি।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জেলা পরিষদে জনপ্রশাসন বা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত কোনো পিএস (PS) পদ নেই। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো সংস্থায় পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার জেলা পরিষদ প্রশাসকের নেই। অনুমোদিত পদের বাইরে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন-ভাতা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলে তা সরাসরি আর্থিক আইন ও সরকারি অডিট বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকার কর্তৃক জেলা পরিষদের কাজের গতিশীলতার জন্য পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ করা হলেও তাঁদেরকে প্রচলিত সরকারি বিধি ও নির্ধারিত পদের বাইরে অতিরিক্ত কোনো জনবল নিয়োগের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। অতএব, পটুয়াখালী জেলা পরিষদ বা যেকোনো জেলা পরিষদের প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী (PS) হিসেবে যদি কাউকে দায়িত্ব প্রদান বা নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা সরকারি নিয়োগ বিধিমালা ও জেলা পরিষদ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সম্পূর্ণ অবৈধ।
জেলা পরিষদের কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার মূল কাঠামো ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলো হলোপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জেলা পরিষদে উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যিনি পরিষদের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও জেলা পরিষদে দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাহায্যকারী স্টাফ থাকেন।
প্রশাসক বা চেয়ারম্যানদের দৈনন্দিন অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করার জন্য জেলা পরিষদের নিজস্ব স্টাফ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পিয়ন/সহকারী নিযুক্ত থাকেন, তবে আলাদা কোনো পিএস পদমর্যাদার পদ বরাদ্দ থাকে না।এদিকে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান) জেলা পরিষদ প্রশাসকের আশ্রয়-প্রশয় পেয়েই নিজেকে প্রশাসকের চেয়েও নিজেকে বড়কিছু ভাবতে শুরু করেছেন।
অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হচ্ছে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান)ই সব। গ্রাম কিংবা শহরের যে কোনো মানুষজন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ গিয়ে প্রথমেই স্টাফদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন মিজান ভাই বসেন কোথায়। পটুয়াখালী জেলা পরিষদ কর্তৃক আর্থিক, শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা সহায়তা, উন্নয়ন মূলক কাজের বিল ও টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির বিল পেতে এ জেলা পরিষদের প্রশাসকের উক্ত পিএস এর হস্তক্ষেপ ছাড়া পাওয়ার রাস্তা নেই।
পটুয়াখালী জেলা পরিষদে অসহায়, দুঃস্থ মানুষ আর্থিক সহায়তা, অসচ্ছল এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সাহায্যের আবেদন নিয়ে গেলে জেলা পরিষদ প্রশাসকের পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান) তাদের যে আবেদন টি প্রশাসকের সামনে ধরেন সেই আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেন প্রশাসক।এতেই জেলা পরিষদ প্রশাসকের পিএস থেমে থাকেন না উক্ত আবদেন পত্রে তিনি যে অংকের টাকা লিখে দিবেন সেই অংকের পরিমাণের চেক নির্দিষ্ট তারিখে তাঁর মাধ্যম ছাড়া পাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, রাস্তা – ঘাটের উন্নয়ন মূলক কাজের বরাদ্দ পেতে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসকের পিএস কে রাজি- খুঁশি করাতে না পারলে তাদের চাওয়া-পাওয়ার আশায় গুড়ে বালি পড়েছে বলে মনে করা হয়। এমনকি পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসকের পিএস এর আশীর্বাদ পুষ্ট না হলে কোনো গণমাধ্যম কর্মী থেকে শুরু করে কোনো শ্রেণির পেশার মানুষ জন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ থেকে কোনো প্রকার সেবা পায় না বললেই চলে।
কে কোন দল করেন তাঁর কৈফিয়ত ও পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের পিএস কে দিতে হয় সর্বসাধারণকে। সুত্রে আরও জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান)র নির্দেশনা ছাড়া এ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, প্রশাসনিক অফিসার, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, সার্ভেয়ার, হিসাব রক্ষক, নিম্নমান সহকারী পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা কোনো ব্যক্তি কে সেবা দিতে পারে না বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের জীপ চালকগন, ইলেকট্রেশিয়ান, ডুপ্লিকেট অপারেটর কাম দপ্তরী, অফিস সহায়কগন,নৈশপ্রহরী, বার্তাবাহক, দাড়োয়ান কাম কেয়ারটেকার ও পাঁচক মাস্টার রোল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা পরিষদে আসা কারো সাথে কথা টুকু বলতে পারে না এ পরিষদের প্রশাসকের পিএসের কারণে বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিজ্ঞ মহলের অনেকেই বলেন , পটুয়াখালী জেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ এর প্রশাসকের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্য এখনই তাঁর অবৈধ পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান) কে অপসারণ করা দরকার।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, সময় যত গড়াবে ততই পটুয়াখালী জেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা সেবাপ্রার্থীদের জেলা পরিষদ প্রশাসকের পিএস এর কাছে তাদের জিম্মি হতে হবে এবং আর্থিক লেনদেন কেলেঙ্কারির ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে। পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক এর পিএস এর আত্নীয় – স্বজন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এসেছেন। তাঁরা ও এখন জেলা পরিষদ থেকে তাঁর মাধ্যমে সেবা নেওয়ার পথ সুগম করছেন।
নাম প্রকাশ করার শর্তে কয়েক জন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সেবা প্রার্থী বলেন, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সকল কাজের হরতা-কর্তা এবং প্রবাশালী পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসকের পিএস। এ ব্যাপারে জানতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা পরিষদ এর প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টির পিএস মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার (গোলাপ মিজান)’র মুঠোফোনে কয়েক বার কল দিলেও প্রতিবারই তাঁর ফোন কল ব্যাস্ত পাওয়া যায়।
এজন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয় জানতে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল এর মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, সরকারি বন্ধের ছুটিতে আছেন এই কথা বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এজন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টির মুঠোফোনে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাত /আট বার কল দিলেও প্রতিবারই তাঁর ফোনে রিং হলেও কেউ রিসিভ করেন নি। এজন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
The post নিয়ম ভেঙে পিএস নিয়োগ দিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক appeared first on দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ.
