ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কার্ড বিতরণে কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে। কাজেই কাউকে দৌড়াদৌড়ি বা তদবির করার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা বিএনপি যখন যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে সেটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, টাঙ্গাইল থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটির উদ্বোধন করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাত মাসে এই সরকার নির্বাচনের প্রতিটি ওয়াদা পূরণ করে যাচ্ছে।”
নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেউ কেউ বেহেশতের টিকিট পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। এ ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দিই না। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক সহযোগিতা করবে প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপজেলা মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া চালের ডিও বিতরণ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জুয়েল রানা/এসএন
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে পূজার আগে বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মিরতিংগা চা বাগানে আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। ছবি: খবরের কাগজ
-->শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসব বোনাসের দাবিতে মৌলভীবাজারে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করছেন মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকরা। পূজার আগে কাঙ্ক্ষিত বোনাস নিশ্চিত না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজে যোগ দেননি তারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে কাজ বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তাদের মাথা ও হাতে কালো পতাকা ছিল। সাদা কাগজে কালো অক্ষরে লেখা ছিল, ‘রুটি-রুজির সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘বেতন নিয়ে টালবাহানা চলবে না।'
শ্রমিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর চা উৎপাদনে শ্রম দিলেও উৎসবের আগে প্রাপ্য বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে। পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার কথা যে সময়ে, সে সময়ই নিজেদের পাওনা আদায়ে রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে তাদের।
শ্রমিকরা জানান, প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে তারা ৬০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়ে আসছেন। কিন্তু এবার বাগান কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা বলেছে। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পূর্ণ বোনাসের দাবিতে একজোট হয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
চা শ্রমিক রিতা পাইনকা, শান্তি তাঁতি, আলন্তী উরাং, মানিক প্রসাদ, লেবুলাল বাউরী ও সুমন কুর্মীসহ আন্দোলনকারীরা জানান, সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে চা উৎপাদন সচল রাখেন তারা। অথচ উৎসবের সময় নিজেদের পাওনা নিয়েই অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে। বাগানে লোকসান না থাকলেও শ্রমিকদের বোনাসের ক্ষেত্রে টালবাহানা করা হচ্ছে। পূর্ণ বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
বাগানের বর্তমান সভাপতি মন্টু অলমিক ও সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন তন্তবাই বলেন, আশপাশের চা বাগানগুলোতে শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পেলেও মিরতিংগার শ্রমিকরা এক সপ্তাহের মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পাননি। শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মিরতিংগা চা বাগানের ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন যৌক্তিক। বোনাস দেওয়ার জন্য কৃষি ব্যাংকের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত অর্থ না পাওয়ায় পূর্ণ বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি। অর্ধেক বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শ্রমিকরা তা গ্রহণ করছেন না।
পুলক/এএফ
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরায় আড়াই কোটি টাকার আইস জব্দ
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->সাতক্ষীরার দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকা থেকে ৫০০ গ্রাম ভারতীয় ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মাদকের আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি টাকা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমানের নির্দেশনায় ঘোনা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
জাকির/নাঈম
আরও পড়ুন
শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়তে ঝালকাঠিতে ‘পড়া-খেলা’ উৎসব
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং আনন্দের মাধ্যমে শেখার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে ‘পড়া-খেলা উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঝালকাঠি শহরের পৌরসভা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিডের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বশির গাজী। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার ও পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট দীনা ইয়াসমিন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রুম টু রিডের ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আল মামুন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
আয়োজকেরা জানান, পড়া ও খেলার সমন্বয়ে শিশুদের পঠনদক্ষতা বাড়ানো, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং অভিভাবকদের শিশুদের বই পড়তে উৎসাহিত করাই এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় বই পড়ার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, রুম টু রিড ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে। সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিক স্তরের শিশুদের পঠনদক্ষতা বৃদ্ধি ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে সংস্থাটি।
মো. নেয়ামুল আহসান হিরন/এসএন
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে বিদেশি কসমেটিকস ও শিশু খাদ্যে ভুয়া স্টিকার: প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরে বিদেশি কসমেটিকস ও শিশুদের পণ্যে আমদানিকারকের আসল স্টিকারের বদলে ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করার অপরাধে ‘এ. এস. এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া ও বিপণীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান এ জরিমানার আদেশ দেন। অভিযানকালে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার মুচলেকা দেয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে জব্দ করা বিভিন্ন আমদানিকারকের ভুয়া স্টিকার ধ্বংস করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
অভিযানকালে শহরের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, সঠিক ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি না করা এবং অবৈধভাবে পণ্য মজুত করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ফয়েজ/এএফ
