অনলাইন ডেস্ক।।
সৌদি আরবের দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বরাতে আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বুধবার রাতের এ হামলায় একজন ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে এ হামলা হয়।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। ওই ঘটনায় ২৭ বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।
এছাড়াও দেশটির শায়বাহ তেলক্ষেত্রে অবস্থিত সৌদি আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। ড্রোনটি প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হন। নিহতদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক।
মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। আহতদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শায়বাহ তেলক্ষেত্রের স্থাপনার সীমানার বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত যানবাহনে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় তেলক্ষেত্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাঁচটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি।
এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোট। বৃহস্পতিবার ভোরে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, ড্রোন হামলার ঘটনায় বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ)। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে গুরুতর পর্যায়ের। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে এসব ড্রোন হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
