কুষ্টিয়ার খোকসায় পৃথক পুলিশি অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবাসহ তিনজন, বিশেষ অভিযানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে আরও একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাঁদের মধ্যে মো. আলাউদ্দিনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার খোকসায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মাদক সেবনের দায়ে মো. আলাউদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারী, ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তি এবং বিশেষ অভিযানে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে উপজেলার শোমসপুর পশ্চিমপাড়া রেলস্টেশন গেটের দক্ষিণ পাশে খোকসা-শোমসপুর বাজারগামী পাকা সড়ক থেকে মোছা. বিউটি খাতুন (৪০) নামে এক নারীকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. ফারুক মন্ডলের মেয়ে ও মো. জনি শেখের স্ত্রী। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১০, তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
একই রাতে ১০টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার পূর্ব গোপালপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. চতুর আলী প্রামানিককে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি মৃত বেগু প্রামানিকের ছেলে এবং ৯ নম্বর জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর পূর্ব গোপালপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হিসেবে চিহ্নিত এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার নম্বরের তথ্য দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার আমবাড়িয়া নতুন বাজারসংলগ্ন হাসান মন্ডলের চৌচালা টিনের মুদি ও চা-বিস্কুটের দোকানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন উত্তর আমবাড়িয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মন্ডলের ছেলে মো. হাসান মন্ডল (২৮) এবং ফুলবাড়ি মালপাড়া গ্রামের মো. ছাদেক সর্দ্দারের ছেলে মো. কাকন সর্দ্দার (২৫)।
এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১১ ও ১২, তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬। উভয় মামলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আজইল এলাকা থেকে মো. আলাউদ্দিনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মনছুর আলীর ছেলে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক সেবনের দায়ে তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
খোকসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে তাদের অভিযান এবং আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
