মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দুকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শিক্ষক রাকিবুল হাসান রিপনের বিরুদ্ধে। তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের ছোট ভাই এবং আহাম্মদ আলী কলেজের প্রভাষক।
রোববার দুপুরে সাংবাদিক মাহাবুব চান্দুকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাহাবুব চান্দু জানান, গত শনিবার দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন পত্রিকায় ‘মেহেরপুরে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদকে কেন্দ্র করেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাকিবুল হাসান রিপন তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেন। এ সময় রিপন বলেন, সংবাদে স্বজনপ্রীতি লিখেছিস, তুই সার ডিলার নিয়োগের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করেছিস। তোর ‘পিঠের ছাল তুলে নেব শু*য়ো**রের বাচ্চা, তুই কোথায় আছিস বল’। পরে তিনি কলটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে রাকিবুল হাসান রিপনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাহাবুব চান্দুর প্রকাশিত সংবাদে দলীয়করণ করা হয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেন। তবে সংবাদে স্বজনপ্রীতির কথা লেখার বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। এর জবাব বা ব্যাখ্যা দিতে না পারলে মাহাবুব চান্দুকে মেহেরপুরে সাংবাদিকতা করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিপন আরও বলেন, ‘আমরা এখন সরকারে আছি, যারা বিএনপি করছে তারা একটু সুবিধা পাবে এটাই স্বাভাবিক।’ তিনি অভিযোগ করেন, ওই পত্রিকায় আয়নাঘর নিয়ে লেখা হয় না এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লেখা হয় না। অথচ সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির কথা লেখা হয়েছে। এ বিষয়ে হিসাব দিতে না পারলে ওই পত্রিকার প্রতিষ্ঠান রাখা হবে না এবং মাহাবুব চান্দুকে মেহেরপুরে সাংবাদিকতাও করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সংবাদ প্রকাশকারী অন্য কাউকেও মেহেরপুরে সাংবাদিকতা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন রিপন।
হুমকির ঘটনায় মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সদস্যসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম বলেন, এ বিষয়ে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী বিপিএম বলেন, এ বিষয়ে জিডি করা হলে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএ
