কালবেলা · আন্তর্জাতিক
দ. কোরিয়াকে মোকাবিলায় সেনাদের ‘কঠোর পদক্ষেপের’ নির্দেশ কিমের বোনের
২১/১০/২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা করছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। এই নিজ সেনাদের সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র ভাষ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা ‘নিরাপত্তা হুমকি’ সৃষ্টি করলে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে উত্তর কোরীয় সেনাদের সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার কিম ইয়ো জং সেনাবাহিনীর মার্শাল পাক জং চনসহ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা দেন।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিমের বোন দেশটিতে ব্যাপক প্রভাবশালী। তার সফর ও নির্দেশনার কারণে দুই কোরিয়ার মধ্যে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সীমান্তে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে বরে মনে করা হচ্ছে।
কিম ইয়ো জং বলেন, সীমান্তে নতুন সামরিক ইউনিটগুলো নিজ নিজ ফায়ারিং পজিশন গ্রহণ করেছে। যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের সেনাদের।
কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, গত ১ আগস্ট থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে লাউডস্পিকারে ২ হাজার ৮৭০ বার সতর্কবার্তা প্রচার করেছে এবং ২০১ বার সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।
কিম ইয়ো জং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সামরিক নেতৃত্ব দক্ষিণ সীমান্তে আরও কৌশলগত আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লাউডস্পিকারে প্রচার পুনরায় শুরু করা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি সিউল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, পিয়ংইয়ং সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়ানোর হুমকি বাস্তবায়ন করলে উত্তর কোরিয়ার যেকোনো নতুন উসকানির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশকে পৃথক করেছে সেনামুক্ত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড)। তবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗