ওপেনএআই কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র, সৌদি কর্মী গ্রেপ্তার!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কার্যালয়ে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপনের অভিযোগে সৌদি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী আবদুলরহমান আলফোজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের অভিযোগ, নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে সংবেদনশীল কথোপকথন গোপনে ধারণ করার উদ্দেশ্যে তিনি ওই যন্ত্র স্থাপন করেছিলেন। তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের সোর্স কোড, এআই মডেলের ওয়েট কিংবা গ্রাহকদের তথ্য চুরি বা অননুমোদিত ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা এ তথ্য জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, আলফোজান ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক যন্ত্র ব্যবহার করে অন্যদের মৌখিক কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর কার্যালয়ে একটি জটিল প্রযুক্তির রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) বিষয়টি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের এআই মডেলের সহায়তায় যন্ত্রটি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত নির্দিষ্ট কর্মীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের অভিযোগ, একটি নির্বাহী সম্মেলনকক্ষের টেলিভিশনের পেছনের ইউএসবি পোর্টে টয়লেট পেপারে মোড়ানো অবস্থায় যন্ত্রটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের কর্মীরা এটি খুঁজে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এর দুই দিন আগে যন্ত্রটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল এবং এতে এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, আলফোজান তাঁর নিয়োগকর্তার সম্মেলনকক্ষে রেকর্ডিং যন্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সংবেদনশীল কথোপকথন গোপনে ধারণ করা।
তদন্তকারীদের দাবি, ওপেনএআইয়ের সংবেদনশীল স্থানগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম স্থাপনের পদ্ধতি জানতে আলফোজান একটি উৎপাদনশীলতা-বিষয়ক টুল ও চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন। এসব চ্যাটে যন্ত্র তৈরি ও পরিবর্তন, স্থাপন, অডিও রেকর্ডিং, যন্ত্র আড়াল করা এবং দূর থেকে প্রবেশের ব্যবস্থা নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর যন্ত্রটি পরীক্ষা করতে আবারও ওই সম্মেলনকক্ষে যান আলফোজান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁকে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একই দিন ভবনের অন্য একটি স্থানে তিনি একটি ব্যাগ ফেলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাগটি পরীক্ষা করে তাঁর মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র এবং সম্মেলনকক্ষে পাওয়া যন্ত্রটির মতো আরেকটি রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান।
ঘটনার পর আলফোজানকে চাকরিচ্যুত করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের সোর্স কোড, এআই মডেলের ওয়েট বা গ্রাহকদের তথ্য চুরি কিংবা অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয় আলফোজানকে। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
