পথ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের জন্য কড়া শাস্তির নিদান দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। কিন্তু রাস্তায় নেমে নিজেই হেলমেট ছাড়া স্কুটিতে সওয়ার হয়ে বিতর্কে জড়ালেন মন্ত্রী নিজেই! বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়ায় মন্ত্রীর সেই হেলমেট হীন ছবি ভাইরাল হতেই শুরু হয় সমালোচনা। এমনকী স্কুটি চালকের মাথাতেও ছিল না হেলমেট। তা দেখে মন্ত্রীর উদ্দেশে নেটিজেনদের প্রশ্ন, ‘আপনি আচরি ধর্ম। নিজে মানছেন না কিন্তু অন্যকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলছেন কেন?’
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ধমানের রাস্তায় নেমেছিলেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য ছিল, হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের শুধু ৫০০ টাকা জরিমানা করলেই হবে না, ৭ দিন বাইক আটকে রাখার নিদান দেন ট্রাফিক পুলিশকেও।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ধমানের রাস্তায় নেমেছিলেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য ছিল, হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের শুধু ৫০০ টাকা জরিমানা করলেই হবে না, ৭ দিন বাইক আটকে রাখার নিদান দেন ট্রাফিক পুলিশকেও। মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন নেটিজেনরা। বর্ধমান শহরের রেল ওভারব্রিজ, নীলপুর মোড়, বীরহাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে সচেতনতার পাঠ দেন হেলমেটহীন বাইক, স্কুটি চালক ও সওয়ারিদের। ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনি হেলমেট পরেছেন কিন্তু পিছনের জনকে কেন হেলমেট পরাননি? দুর্ঘটনা ঘটলে ওঁরও ক্ষতি হতে পারে।” মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘৫০০ টাকা জরিমানা করলেও এদের শিক্ষা হবে না। ৭ দিন বাইকটা আটকে রাখবেন। তাহলেই এরা শিক্ষা পাবে।”
পুজোর সময়েই মন্ত্রীর একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দেখা গিয়েছে, মন্ত্রী হেলমেট ছাড়াই স্কুটির পিছনে বসে রয়েছেন। যিনি স্কুটিটি চালাচ্ছেন তিনিও হেলমেট পরেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
মন্ত্রীকে এই ভূমিকায় দেখে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পুজোর সময়েই মন্ত্রীর একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দেখা গিয়েছে, মন্ত্রী হেলমেট ছাড়াই স্কুটির পিছনে বসে রয়েছেন। যিনি স্কুটিটি চালাচ্ছেন তিনিও হেলমেট পরেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে মন্ত্রীর ট্রাফিক সচেতনা ও হেলমেট ছাড়া স্কুটিতে সওয়ারি হওয়ার সেই দুটি ভিডিও শেয়ার করে পূর্ব জেলা কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার লিখেছেন, ‘‘উদ্যোগটা খুব ভালো প্রশংসনীয়। কিন্তু আপনি নিজে যদি তার উদাহরণ হতেন তাহলে মানুষ আরও বেশি আপনার কথা গ্রাহ্য করত। দুটো ভিডিও কিন্তু এবারের দুর্গাপুজোর।”
এরপরই মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে গৌরব লিখেছেন, ‘‘আর একটা কথা, আপনি যে বলছেন ৫০০ টাকা ফাইন করলেই শুধু নয়, সাত দিন গাড়ি আটকে রাখতে হবে। সাতদিন ওই ছেলেটি যদি তার গাড়িটা না পায় তার সংসার হয়তো চলবে না। তার বাচ্চার দুধের প্যাকেটটা হয়তো আনতে পারবেনা। হেলমেট পরা অবশ্যই উচিৎ। যেভাবে দুর্গাপুজোর সময় ব্যাপারটা নিয়ে লাফালাফি করা হচ্ছে সেটা একটু অন্যরকম মনে হচ্ছে।” নিজেও অনেক সময় হেলমেট পরেন না বলে স্বীকার করেছেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি। পুজোর সময় ট্রাফিক সচেতনতায় মন্ত্রীর উদ্যোগকে বিতর্কিত করে দিয়েছে ভাইরাল ভিডিও।
