কানাডায় নির্মিতব্য বাংলা সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অধরা খান। পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যোগাযোগের অভাবে কাজটি ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন এ চিত্রনায়িকা। রোববার নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন অধরা খান। পোস্টের শুরুতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমাটি কেন করলাম না? আপনাদের অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কেন আমি সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ এরপরই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
‘নায়ক’ খ্যাত অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই ‘ভায়োলেন্স’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও তাদের পক্ষ হতে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায়, আমার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছি।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমি এতদিন নীরব ছিলাম, কারণ আমার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাইনি। তবে এই অভিজ্ঞতার কারণে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি।’
অধরা খান লিখেছেন, ‘চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব প্রজেক্টের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না। একই সঙ্গে, এই সিনেমার জন্য অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে না পারায় এখানে আমার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে। এই সিনেমায় আমার শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করাও আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।’
এ অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘বাংলা সিনেমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে। যথাযথ পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াকে আমি আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় ‘ভুল’ হিসেবেও দেখছি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা বা কোনো সিনেমার ক্ষতি করা নয়; বরং আমার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান পরিষ্কার করা।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের আরও সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্ব কখনোই একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেয়াটাও আমার দায়িত্ব। আশা করি, আমার বক্তব্যকে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে অভিনেতা বাপ্পি চৌধুরীর বিপরীতে ‘নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় অধরা খানের। তারপর চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকের সঙ্গে ‘মাতাল’ এবং পরে ‘সুলতানপুর’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক মহলে প্রশংসায় ভাসেন এ অভিনেত্রী।
