শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে নেওয়া সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও টানেলে বড় ধরনের যানজট হয়নি। তবে গত বছরের তুলনায় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং মুক্তারপুর সেতুতে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায় বেড়েছে। বিপরীতে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায় কমেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে সেতুটি দিয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা।
একই সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা।
কর্ণফুলী টানেল দিয়ে এ বছর ছয় দিনে ২৭ হাজার ৯১৩টি যানবাহন চলাচল করেছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ২৯ হাজার ৮৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
অন্যদিকে, মুক্তারপুর সেতু দিয়ে এ বছর ৭৮ হাজার ৭৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৫ টাকা। গত বছর একই সময়ে ৫৮ হাজার ৯৪৮টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছিল ৩৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের দুর্গাপূজায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যানজটের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেতু ভবনে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। জরুরি সেবা দিতে চালু রাখা হয় হটলাইন নম্বর ০১৭০০৭১৬৪৬৫।
এ ছাড়া সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় যানবাহনের চাপ বাড়লেও উল্লেখযোগ্য যানজট না থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা ও যমুনা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মুক্তারপুর সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং টোল আদায় ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীরা সহযোগিতা করেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে দুর্গাপূজায় যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
