একদিকে ৪০ ডিগ্রি ছাড়ানো মরুর উত্তাপ, অন্যদিকে সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ! মাঝখানে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ। বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিযোগিতা তাই কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়েরও সুযোগ। টেস্টের কঠিন কন্ডিশন পেরিয়ে এবার ওয়ানডেতে নিজেদের নতুন করে মেলে ধরতে চান লিটন দাসরা। আর সেই অভিযানে ২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্মৃতিই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনকে।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে গরমের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেশের মাঠে এপ্রিল-মে মাসে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এমন গরমে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও বিদেশের কন্ডিশনে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তবে ওয়ানডে সিরিজে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। বিকেলে শুরু হওয়া ম্যাচের একটি ইনিংস হবে কৃত্রিম আলোয়। পুরোটা সময় তীব্র গরমে থাকতে হবে না ক্রিকেটারদের। যে মিশন শুরু শনিবার।
কন্ডিশনের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মোসাদ্দেক। অনুশীলনের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘টেস্টের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের কন্ডিশন আলাদা হবে। এখানে বিকেলে খেলা শুরু আর একটা ইনিংস হবে রাতে। তাই কন্ডিশন একদম গরম হবে না যেমনটা টেস্টে ছিল।’
তবে আবহাওয়ার স্বস্তি মানেই যে মাঠে বাড়তি সুবিধা, তা নয়। দলের একাংশ আগে থেকেই আবুধাবিতে থাকায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। এশিয়ান গেমস খেলে আসা ক্রিকেটারদের আবার দ্রুত প্রস্তুত হতে হচ্ছে। মোসাদ্দেক বলেন, ‘যারা টেস্টের অনেক আগে এসেছে তাদের জন্য এই কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এখন সহজ হয়েছে। আর আমরা যারা এশিয়ান গেমস খেলে এসেছি তাদের এখন দ্রুত মানিয়ে নিতে হচ্ছে। খেলাটা পুরোপুরি দিনে না হওয়ায় অত্যধিক গরম থেকে বাঁচবো। তবুও যে কন্ডিশন হোক আমাদের সেরা খেলাটা দিতে হবে যেনো আরেকটি ট্রফি জিততে পারি।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় সিরিজ মানেই ২০১৯ সালের আয়ারল্যান্ড সফরের স্মৃতি। সেই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। মোসাদ্দেকের বিশ্বাস, সেই সাফল্য এবারও দলকে অনুপ্রাণিত করবে।
সামনে এশিয়া কাপ, এরপর বিশ্বকাপ। তার আগে এমন একটি প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে বড় মঞ্চে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, ‘২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজ আমাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণা। সামনে এশিয়া কাপ, এরপর বিশ্বকাপ। এই ত্রিদেশীয় সিরিজগুলো জিততে পারলে আমার কাছে মনে হয়, আমরা সামনে অনেক আত্মবিশ্বাস পাব।’
তবে পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না মোসাদ্দেক। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। আধুনিক ক্রিকেটে কোনো দলই সহজ প্রতিপক্ষ নয় বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার। তাঁর ভাষায়, ‘আধুনিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আধুনিক ক্রিকেটে কোনো দেশ বা দলকেই ছোট বলা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সবাই ওয়ানডে ফরম্যাটে খুব ভালো করছে।’
মোসাদ্দেকের কাছে এই সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দল হিসেবে বাংলাদেশের উন্নতি। তাঁর মতে, বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলাতে হলে এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে ভালো খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ, এখানে আমরা কত ভালো করতে পারি। এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়া কাপের পরে বিশ্বকাপে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, এই সময়গুলোতে দল হিসেবে ভালো করতে পারলে সেগুলো আমাদের জন্য সহজ হবে।’
দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের দায়িত্বও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমরা যদি মাঠের ক্রিকেটটা ভালো খেলতে পারি, সেটা অনেক কিছুই প্রমাণ করে দেবে, আমরা কতটা ভালো দল। সেই জায়গা থেকে আমাদের সবাইকে মিলে প্রমাণ করতে হবে, দল হিসেবে আমরা কত ভালো খেলতে পারছি। ক্রিকেট কোনো ব্যক্তিগত খেলা নয়, এটা পুরোপুরি দলীয় খেলা। তাই দল হিসেবে আমরা কতটা ভালো করতে পারছি, সেটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
লিটন দাসের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের দল নিয়ে সিরিজে খেলবে বাংলাদেশ। ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবুধাবিতে প্রথম ম্যাচ। ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ের পর ২১ অক্টোবর শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২৩ অক্টোবর একই ভেন্যুতে ফাইনাল।
ট্রফি জয়ের পাশাপাশি নিজেদের প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণেরও সুযোগ এই সিরিজে। কারণ ত্রিদেশীয় আসর শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পরই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হবে বাংলাদেশের। মরুর উত্তাপ থেকে শারজার ফাইনাল-এই কয়েকটি দিনেই তাই নিজেদের সামনের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য তৈরি হওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি
১৭ অক্টোবর : বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে, আবুধাবি
১৯ অক্টোবর : আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে, আবুধাবি
২১ অক্টোবর : আফগানিস্তান-বাংলাদেশ, শারজা
২৩ অক্টোবর : ফাইনাল, শারজা
