সামনেই আসছে শীতের মরশুম। আর শীতকাল মানেই বাজারে বসে হরেক রকম মরশুমি সবজির মেলা। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন এই সমস্ত সবজি যদি বাড়িতেই চাষ করা যায়? তাহলে মন্দ হয় না নিশ্চয়। আর এ বছর অক্টোবর মাসেই যেভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে তাতে এখনই এই সমস্ত শীতের শাকসবজি চাষ করার আদর্শ সময় বলা যেতে পারে।
যতই হোক বাজার থেকে কিনে আনা সবজি আর বাড়িতে নিজের হাতে ফলানো সবজির মধ্যে স্বাদের পার্থক্য কিন্তু আছেই। তাছাড়া নিজের বাড়িতে ফলানো সবজি খেতে কার না ভালো লাগে। তাই আজ আপনাদের জানাবো বাড়ির ছাদ বাগানে অথবা বারান্দার ছোট্ট কিচেন গার্ডেনে আপনি কিভাবে শীতের মরশুমি সবজি চাষ করতে পারবেন। তাই যদি আপনিও চান এ বছর শীতে বাজার থেকে সবজি কিনে খাওয়ার পরিবর্তে নিজের বাড়ির বাগানের সবজি খাবেন তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আজ যে পাঁচটি সবজি চাষের বিষয়ে আপনাদের জানাবো সেগুলি ফলানোর জন্য কোন বড় বাগানের প্রয়োজনও হয় না। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই পাঁচটি সবজি দ্রুত প্রস্তুত করা যেতে পারে।
পালং শাক
শীতকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি পালং শাক। সারা বছরের তুলনায় শীতকালে পালং শাকের স্বাদ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। অক্টোবর মাসে পালং শাকের বীজ সরাসরি পাত্রে বপন করা যেতে পারে। উপযুক্ত আবহাওয়া আর ভালোভাবে যত্ন নিলেন এই শাকের ফলন শুরু হতে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। পালং শাক ফলানোর জন্য খুব বেশি বড় পাত্রেরও দরকার হয় না। তবে গাছগুলি যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ফুলকপি
যখনই শীতকালীন সবজির কথা ওঠে, ফুলকপির নাম সবার প্রথমেই আসে। বাড়িতেই ছোট পাত্রের মধ্যে এই ফুলকপি চাষ করা যেতে পারে। তবে ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে রোদ্দুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফুলকপি চাষ করতে একটা গামলাই যথেষ্ট। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে মোটামুটি ৬০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ফুলকপির ফলন শুরু হয়ে যায়। ধীরে ধীরে ফুলকপির ফুল যখন বড় হতে শুরু করে তখন এগুলি কেটে রান্নার সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব সময় খেয়াল রাখতে হবে ফুলকপি চাষের সময় গামলার মধ্যে যেন জল জমে না থাকে।
https://youtu.be/Lrfrhq_IvfY?si=EXc6z6yGJju3h99_
মূলো
শীতকালীন সবজি গুলোর মধ্যে অন্যতম মূলো। পরোটা থেকে শুরু করে স্যালাড কিংবা আচারের জন্য মুলো খুবই চাহিদা সম্পন্ন একটি সবজি। বাড়িতে চাষ করাও খুবই সহজ। অক্টোবর মাসে মুলোর বীজ সরাসরি মাটিতে পোঁতা হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে মোটামুটি ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই ছোট মূলও প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সময় বেশিও লাগতে পারে। মুলো চাষ করার জন্য সবসময় এমন একটি পাত্র বেছে নিতে হবে যার শিকর নিচের দিকে বেড়ে ওঠার জন্য ভালো জায়গা পাবে। মাটিতে আদ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যাতে পাত্রে বেশি জল জমে না থাকে।
বাথুয়া
দেশীয় শাকসবজি গুলির মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় বাথুয়া। শীতের সময় এই সবজি খেলে স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। পুষ্টি গুণে ভরপুর এই সবজি শুধুমাত্র শীতের সময় জন্মায়। বাথুয়া চাষ করার জন্য মাটিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখতে হয় এবং গাছগুলি বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। এই গাছের বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে আবহাওয়া এবং যত্নের ওপর। বীজ বপনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই গাছের পাতাগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। টাটকা বাথুয়া পাতা দিয়ে শাকসবজি,রায়তা, পরোটা তৈরি করা হয়।
মেথি
খুব অল্প জায়গার মধ্যে সবজি চাষ করতে চাইলে মেথি একেবারে উপযুক্ত। মেথি দানা খুব সহজেই ছোট পাত্র বপন করা যায়। উপযুক্ত আবহাওয়া পেলে এই গাছের পাতা মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই কাটার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। তরতাজা মেথি পাতা দিয়ে পরোটা সবজি মসুর ডাল আরও অনেক কিছু খাওয়া যেতে পারে। এই গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যাতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায় এবং মাটি যাতে কোনভাবে পুরোপুরি শুকিয়ে না যায়।
