ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের চলছে প্রচার-প্রচারণা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠক জনসভায় পরিণত হয়। উঠান বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ দেখে মনে হয় এখানকার জনগণ শুধু দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের জন্যেই অপেক্ষায় রয়েছেন।
দাড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে এখন থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় বুঝে নিতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করে যাতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ছিনিয়ে নিতে না পারে সেজন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রতিটি নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীর নাগরিক দায়িত্ব হবে নিজেদের ভোটের ফলাফল বুঝে নেওয়া। এজন্য প্রয়োজন হলে ফলাফল ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারায় থাকতে হবে। ফলাফল ঘোষণায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করতে পারে উল্লেখ করে তিনি ঠাকুরগাঁও বাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত বিলম্বই করুক না কেন শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভোটের ফলাফল বুঝে নিয়ে জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রতি জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা দেখে যারা জনগণকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদের ব্যালটের মাধ্যমেই প্রতিহত করতে হবে। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে না বুঝতে পেরে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ষড়যন্ত্র করছে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষতা হারায় এবং নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির বিজয়ের জন্য ফলাফলে কারচুপি করে তবে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না সতর্ক করে তিনি নির্বাচনের কাজে জড়িত সংশ্লিষ্টদের কোনো দল বা ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান না নিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূল করে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য মানবিক ঠাকুরগাঁও হিসেবে গড়ে তোলা হবে আশ্বাস দিয়ে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে বলেন, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে দলীয়করণ আর সিন্ডিকেট করবো না। কৃষি নির্ভর ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি পরিবারের জন্য ন্যায্যমূল্যে এবং যথাসময়ে কৃষি পণ্য, বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সিনিডকেট থাকবে না, দলীয়করণ চলবে না। ফলে সার, বীজ ও কীটনাশকের সংকট হবে না।
বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর উপদেষ্টা মাওলানা ওয়াসিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং বেগনবাড়ি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মাওলানা সাঈদ আহমদ সাইফি। এসময় বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
