দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ৬ শিশুর মধ্যে ৩ শিশু ঢাকায়, ২ শিশু চট্টগ্রামে এবং ১ শিশু সিলেটে চিকিৎসাধীন ছিল। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৭৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৬ জন এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৮১ জনের। এরপর সিলেটে ১৮৯, চট্টগ্রামে ৯৬, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮১, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৪৭ ও রংপুরে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৭১২ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন।
রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়। তাদের মতে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলাই এর প্রধান কারণ। চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। গত মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
