Published on
:
2 min read
এই সময়, ক্যানিং: পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন যে কোনও বিচারাধীন বন্দির উপরে ডিম ছোড়া এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই ধরনের ঘটনা রুখতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু তার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশে হেফাজতে বন্দিদের উপরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতাদের শনিবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানা চত্বরেই হামলা চালানো হয় তাঁদের উপরে। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি তাঁদেরকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়কের বাড়িতে অভিযান চালায় বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিধায়কের বাড়ি থেকেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁরা প্রত্যেকেই বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অজয় দেবনাথ ওরফে তন্ময়, শিলাদিত্য রায়, দীপাঞ্জন অধিকারী, আরাফত দেওয়ান ও রাজু পাণ্ডে।
তাঁদের মধ্যে শিলাদিত্য রায় ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান এবং অজয় দেবনাথ ওরফে তন্ময় তৃণমূল কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচিত। শনিবার ধৃত পাঁচজনকে যখন ক্যানিং থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, থানা চত্বরেই একদল উত্তেজিত জনতা তন্ময় দেবনাথকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, পুলিশের সামনেই তন্ময়–সহ বাকিদের ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, তন্ময় দেবনাথের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালে ক্যানিং থানায় ঢুকে পুলিশকর্মীদের উপরে হামলা, থানা ভাঙচুর এবং এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। ধৃত পাঁচজনকে এ দিন আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী–সমর্থকরাই ধৃত তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের উপরে পুলিশের সামনেই হামলা চালিয়েছে। রীতিমতো তাঁদেরকে মারধর করা হয়েছে। পুলিশ দেখেও নির্বিকার ছিল। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, তৃণমূল নেতাদের উপরে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই।
