লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নারী, শিশু ও পুরুষসহ ১২ জন নাগরিককে ঠেলে (পুশইন) পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে রাতের আঁধারে ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ। রোববার টানা প্রায় ২৫ ঘণ্টা পুশইনের চেষ্টার পর আজ সোমবার গভীর রাতে তাদের তারকাঁটার গেট খুলে দুই ভারতীয় বিএসএফ সদস্য ভেতরে নিয়ে যায়। পরে ওই ১২ নাগরিককে পিকআপযোগে অন্যত্র নিয়ে যায় বলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রোববার ভোরের দিকে ওই ১২ ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পরে বিজিবির বাধায় পিছু হটে যায় বিএসএফ। পরে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জিরোলাইন থেকে ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ২৫ থেকে ২৮ ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন।
ঘটনাটি গত রোববার ভোরে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বামনদল সীমান্তের ওপারে ভারতের মেকলিগঞ্জ মহকুমার সদরের বিএসবাড়ি সীমান্তে ঘটেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন সীমান্তের ৮৩৮ মেইন পিলারের ১ সাব-পিলারের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে ওপারের ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় ১২ নাগরিককে ভোররাতে জোরপৃবক পুশইনের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে বিএসএফকে বাধা দেন। পরে খবর পেয়ে বুড়িমারী বিজিবি ক্যাম্পের বিজিবির টহল দলের সদস্য ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের বাধায় বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে। পরে ভারতীয় ১২ নাগরিককে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরে নিয়ে তাদের ওই সীমান্তে চাবাগান এলাকায় দিন-রাতভর বসিয়ে রাখে। অবশেষে গভীর রাতে ওই ১২ নাগরিককে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে পিকআপযোগে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম ওই ১২ ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা দুই দিন ধরে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি। তারা সাড়া দিচ্ছে না। তবে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।