প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক জ্বালানি সংকট।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে বিজিএমইএর ইএসজি ডেটা প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আট মাসে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নেয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থন রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে পাঁচ বছরের জন্য একই করহার বজায় রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ কারখানা চালুতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম সুদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসার পরিবেশ, অর্থায়ন, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সংস্কার করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, বাংলাদেশের ভিত্তি শক্তিশালী। তিনি বাণিজ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং যুব ও নারীর কর্মসংস্থানে সরকারকে পূর্ণ সমর্থনের কথা বলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সদস্যদের তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি দরকার, যাতে আবার সময় বাড়াতে না হয়।
এই প্ল্যাটফর্মে পোশাক কারখানাগুলো পরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা দেবে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এর মাধ্যমে শিল্পের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থায় যাচাই-বাছাই জোরদার করা এবং সরকারের সময়োপযোগী নীতি নেয়া সহজ হবে। বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিশ্বাসযোগ্য ইএসজি ইমপ্লিমেন্ট অপরিহার্য।
