Published on
:
2 min read
চিকিৎসায় গাফিলতি রুখতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা কমিটি গড়তে সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে রোগীর সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নেতৃত্বে বিশেষ নজরদারির জন্য নিয়োগ করতে হবে নোডাল অফিসার। ওষুধ থেকে অস্ত্রোপচার কিংবা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ— নিবিড় নজরদারি হবে ১১টি ক্ষেত্রে।
NMC সূত্রের দাবি, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু ও নিরাপদ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা কমানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে শুধু কমিটি গড়লেই রোগীস্বার্থ সুরক্ষিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে রোগীস্বার্থে নিবেদিত স্বাস্থ্য মহলের একাংশ। সম্প্রতি জারি করা একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্য–শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে রোগীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই কমিটি বা সেল গড়ার নির্দেশ দিয়েছে এনএমসি।
প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন চিকিৎসা পরিষেবায় কোথায় কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা কার্যকর করাই হবে এই কমিটির কাজ। পাশাপাশি, সিদ্ধান্ত কার্যকর করার মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে, এমন একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে। কমিটির নজরদারির আওতায় থাকবে চিকিৎসা পরিষেবার অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার, অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত সুরক্ষা, রক্ত সঞ্চালন, চিকিৎসার সরঞ্জাম, ল্যাব ও রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতির পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধ, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সংক্রমণ, জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার মতো সমস্যাও।
এ ছাড়াও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা, টিকা ও ইঞ্জেকশনের নিরাপত্তা এবং হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সুরক্ষাও কমিটির কাজের আওতায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গড়তে হবে এই কমিটি। নার্সিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্ত করা যাবে। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, অধ্যক্ষ বা মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টের মতো প্রধান কর্তার নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটির সদস্যদের বিবরণ এবং নোডাল অফিসারের পরিচয় জাতীয় রোগী-সুরক্ষা সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। চিকিৎসার মান উন্নত করা, এড়ানো সম্ভব এমন ভুলত্রুটি কমানো এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এনএমসি–র এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েও এই উদ্যোগের বাস্তব কার্যকারিত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রোগীস্বার্থে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পিপলস ফর বেটার ট্রিটমেন্ট’ (পিবিটি)-এর সভাপতি, চিকিৎসক কুণাল সাহা। তাঁর বক্তব্য, ‘রোগীর নিরাপত্তায় কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে প্রশংসনীয় হলেও, শেষ পর্যন্ত সেগুলি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, এনএমসি-র নিজস্ব এথিক্স কমিটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয়। ওই কমিটিতে মাত্র একজন সদস্য রয়েছেন। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ জমে পাহাড় হলেও সেগুলির নিষ্পত্তি হচ্ছে না।