ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও দুরবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। মঙ্গলবার প্যারিসের উত্তরে শ্রমজীবী মানুষের বসতিপূর্ণ শহরতলি সাঁ-দ্যনির একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে ফরাসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এ আন্দোলন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে শত শত বিদ্যালয়ে অবরোধ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে জানান, বিক্ষোভের কারণে প্রায় ২০০টি বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। তবে তিনি বলেন, পরিকল্পিত মিছিলের পথের মধ্যে থাকায় নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবেও কিছু বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কিশোর বয়সে আন্দোলন করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া গ্রেটা থুনবার্গ সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশের বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় হয়েছেন। ফরাসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো আরও ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।সাঁ-দ্যনির লাইসি পল এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাদের জানা উচিত, সারা বিশ্বের মানুষ এসব ঘটনার দিকে নজর রাখছে। নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার তরুণদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পাই।’
গ্রেটা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া, জলবায়ু সংকট কিংবা সামাজিক অবিচার—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, নিজেদের ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারে তরুণদের এখনই সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন গ্রেটা। তার অভিযোগ, পুলিশের ‘চরম সহিংস’ আচরণ প্রমাণ করে যে কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ব্যস্ত, অথচ তরুণদের দাবি উপেক্ষা করছে।
বিভিন্ন ঘটনায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে। এতে শত শত মানুষ আহত এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনার পর সরকার স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করে।
