ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথ দখলের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।
- বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথ দখলের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।
‘সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে এবং এ নিয়ে আপসের কোনো সুযোগ নেই’ জানিয়ে আজ সোমবার দিল্লির রাজপথে বিশাল ‘প্রতিবাদ পদযাত্রা’র ডাক দিয়েছে কংগ্রেস ও মিত্র দলগুলো। একই সঙ্গে নির্বাচনী জালিয়াতি রুখতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, হেল্পম্যান টাইমস।
শনিবার রাতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল এক ঝোড়ো সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় উদ্বিগ্ন প্রতিটি নাগরিকের কাছে আমাদের আকুল আহবান, মোদী-শাহ সরকারের সুপরিকল্পিত ভোট চুরির বিরুদ্ধে সোমবারে দিল্লির এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে যোগ দিন। জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোম্পানিকে না হটানো পর্যন্ত আমরা একচুলও পিছপা হব না।
এর আগে শনিবার সকালে সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ যে নজিরবিহীন ‘লকডাউন’ ও গণ-আটক অভিযান চালায়, তার শিকার হয়েছেন দেশের একাধিক সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখার পর হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, আমরা তো কোনো অপরাধী নই! দু-ঘণ্টা ধরে পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়েছে, এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়, এটি সরাসরি অপহরণ! দেশে এখন জরুরি অবস্থাও পার হয়ে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুরোধে নিজের কলকাতা ফেরার ফ্লাইট বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন মমতা, যা বিরোধী ঐক্যের এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোমবারের মার্চে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছাচ্ছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরা পর্বের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বামপন্থী শীর্ষ নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকেও পুলিশ আটক করে।
কেরালা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এক্সে (সাবেক টুইটার) কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বিরোধীদের দেখে মোদি সরকার কতটা আতঙ্কিত যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গাড়িতে পুরে এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখতে হচ্ছে! মোদির ভয় এখন প্রকাশ্য, যা সত্যি লজ্জাজনক।”
ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআরআই) প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ইন্ডিয়া জোটের এই নতুন মেরুকরণ মোদী সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতোমধ্যে শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর আবদুল্লাহদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেছেন।
শনিবারের ব্যাপক ধরপাকড়ের পর আজ সোমবার পুরো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই যৌথ দিল্লি দখল কর্মসূচী দেশটির রাজনীতিতে চলমান উত্তাপ আরো বাড়িয়ে দিল।
বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ থেকে গণহারে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। তবে ভারত সরকার সংস্থাটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) থেকে গত শনিবার বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বিচারে আটক করা সবাইকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
ওএইচসিএইচআরের এ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। তারা জাতিসংঘের সংস্থাটির উদ্বেগকে ‘অমূলক’ এবং ওএইচসিএইচআরের বক্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।
বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শহরটিতে চলাচলকারী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে ও বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারী, বিক্ষোভের নেতা, নাগরিক সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গণহারে আটকের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন।’
মুখপাত্র আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তা ‘প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ’ হতে হবে। তাঁর এ মন্তব্যে সম্ভবত রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শহরটিতে চলাচলকারী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষও আইন অনুযায়ী কাজ করে এবং কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের প্রতিকার পেতে সবার জন্য দেশের আদালতের দ্বার খোলা রয়েছে।
আল-খিতান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে, তা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এটি দেশটির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মানবাধিকার রক্ষার দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রিক দেশ। ভারতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তিসংগত কিছু বিধিনিষেধের আওতায় নাগরিকেরা এ অধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষও আইন অনুযায়ী কাজ করে এবং কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের প্রতিকার পেতে সবার জন্য দেশের আদালতের দ্বার খোলা রয়েছে।’
‘এ কারণে ওএইচসিএইচআরের উদ্বেগ অমূলক এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।’ জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের এ সংস্থা নিয়মিত বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
মুক্তি পেলেন ধ্রুব-দীপকেসহ ককরোচ পার্টির ৩ শীর্ষ নেতা
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের গুরুগ্রাম থেকে আটক হওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গতকাল রোববার ভোরে মুক্তি দিয়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ। পাশাপাশি সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত।
এর আগে, শনিবার দিল্লিতে অবতরণের পর বিমানের ভেতর থেকেই তাদের আটক করা হয়েছিল। এরপর গতকাল সকালে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে সিজেপির ৩ নেতাদের মুক্তি দিয়েছেন আদালত বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং।
তবে ব্যাপক কড়াকড়ি ও গণগ্রেপ্তারের পরও ক্ষোভ থামছে না দিল্লিতে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আজ দিল্লিতে আবারও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। তাদের সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
এদিকে নেতাদের মুক্তির খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, ‘অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।’
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘ককরোচরা কখনো মরে না।’
এর আগে, বিক্ষোভে রাজধানীজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে আরও প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়।
ব্যাপক এই গণগ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। দিল্লির বিক্ষোভে গণগ্রেপ্তারের খবরে সংস্থাটি ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মোদি ভারতের জন্য ‘অস্বস্তির কারণ’
আটকের এক দিন পর মুক্তি পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ‘ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ’।
ভারত এর আগে কখনো এত বড় ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ দেখেনি বলেও মন্তব্য করেন দিপকে।
গত শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লি আসার পথে দিল্লি পুলিশ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে দিপকেকে আটক করে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান দিপকে।
গতকাল রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিপকে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। এত বড় কাপুরুষ ও জুলুমবাজ এ দেশ আগে কখনো দেখেনি।’
বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না
শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রো ও রেল পরিষেবা যেন স্বাভাবিক থাকে, ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত না হয় এবং জনসাধারণের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয় সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্য আদালত চত্বরের আশপাশে জারি করা বিধিনিষেধমূলক নোটিশ প্রত্যাহারে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শনিবারের বিক্ষোভের আগে গণ-আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা এবং পরিবহন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি শুনানির পর এসব আদেশ দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের আওতায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন না হলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলতে হবে। আইন মেনে শহরে মানুষের অবাধ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে, আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট পরিষেবা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আইন পদ্ধতি ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না; বিশেষ করে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার’ ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের ক্ষেত্রে।
আদালত অবমাননার অভিযোগে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগের বিষয়ে তাদের তলব করা হয়েছে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে দাবি করেন, শনিবার মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চলেছে; যদিও নেটওয়ার্কের ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫টিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের বেঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মামলাটি ১৩ অক্টোবর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোনো আদালতে যাতায়াত নিয়ে যাতে কোনো সংশয় বা ভীতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আদালত কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে।
