নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চণ্ডীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে মনোনয়ন পেলেন থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইলিয়াসাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিরুল ইসলামের স্ত্রী রুবি আক্তার। তাকে মনোনয়ন দেয়ায় ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী রুবিকে সভাপতি মনোনয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া, রুবির স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কমিটির ১২ জন ভোটারের মধ্যে ১০ জনই একটি রাজনীতির দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছুদিন আগে মানবজমিনসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সঙ্গে আঁতাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুই শীর্ষ নেতার পদ স্থগিত করেছিল দলটি।
এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে প্রায় ১৫ বছর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য জোরপূর্বক ইচ্ছামতো এই কমিটি করেছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান জানান, সঠিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হবে। পূর্ব কালিয়া ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাগর কুমার বিশ্বাস জানান, চণ্ডীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। রুবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের স্ত্রী।
এ ছাড়া, সৈয়দ মাগরিব আলী, তরিকুল ইসলাম, জাকিয়া সুলতানা, সাজ্জাদুর রহমান পলাশ, সৈয়দ আলী আহমেদ, সৈয়দ হোসেন আলী, জেসমিন খানম, সৈয়দ মেহেদী হাসান— তারা সবাই পারিবারিকভাবে সক্রিয়ভাবে একটি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
