ক্রীড়া: নিজের ৩২তম জন্মদিনে টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে এক ইনিংসে ফিফটি ও অন্য ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে এমন কীর্তি গড়া প্রথম উইকেটকিপার লিটন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ইকরাম আলিখিলকে দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফিরিয়ে এই রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার। ইবাদত হোসেনের বলে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচটি নেন লিটন। এর মধ্য দিয়ে ম্যাচে তাঁর ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ।
এর আগে একই টেস্টে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও ফিফটি এবং উইকেটকিপিংয়ে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসির দখলে। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে তিনি ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিটন প্রথম ইনিংসে ৫৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করেন। পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসাল করে লিন্ডসির প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
এর আগের দিনই বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন লিটন। আটটি ডিসমিসাল করে তিনি ছাড়িয়ে যান সাবেক উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটকে। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন পাইলট।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে লিটনের নেওয়া ক্যাচগুলো বাংলাদেশের বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইকরাম আলিখিলের ক্যাচটি ছিল তাঁর নবম ডিসমিসাল, যা তাঁকে বিশ্বরেকর্ডের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ডও এখন লিটনের নাগালে। এই রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত। তিনজনের প্রত্যেকের এক টেস্টে ডিসমিসালসংখ্যা ১১টি।
আরও দুটি ডিসমিসাল করতে পারলে তাঁদের রেকর্ড স্পর্শ করবেন লিটন। আর তিনটি করতে পারলে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের একক বিশ্বরেকর্ড গড়বেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
ব্যাট ও গ্লাভস—দুই দিকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে জন্মদিনটি স্মরণীয় করে রেখেছেন লিটন। তাঁর সামনে এখন আরও একটি বিশ্বরেকর্ডের সম্ভাবনা।
