Published on
:
2 min read
এই সময়: নিয়ামক সংস্থা ইনশিওরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (আইআরডিএআই) কর্তৃপক্ষের তরফে এজেন্টদের কমিশন পাওয়ার নিয়ম-সহ বিমা ক্ষেত্রে যে যে বদল আনার প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দ্বারস্থ হচ্ছে এজেন্টদের সংগঠনগুলি। ইনশিওরেন্স ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (আইবিএআই)-এর তরফে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে, কমিশন নির্ধারণে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ব্রোকার এবং এজেন্টদের আয় ৬০-৭০% পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এই নিয়মের গেরোয় আগামী ৫ বছরে এই ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ মানুষের চাকরি (বিমা সংস্থার বেতনভুক কর্মচারী ছাড়া) যেতে পারে।
আইবিএআই-এর তরফে সভাপতি নরেন্দ্র কুমার ভারিন্দওয়াল জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত নিয়মের কনসাল্টেশন পেপার সর্বসমক্ষে আনার পর তাতে ফিডব্যাক জানানোর জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আর্জি জানাচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি নতুন নিয়ম চালু হলে পলিসিহোল্ডার, ব্রোকার-এজেন্টদের কর্মসংস্থান, সরকারি বিমা সংস্থা এবং বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি লগ্নির উপর কী প্রভাব পড়তে চলেছে সে বিষয়ে একটি ছাপানো ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রকাশের আগে নতুন নিয়ম যাতে কার্যকর না করা হয়, সে বিষয়েও দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নতুন নিয়মের (প্রস্তাবিত) যে কনসাল্টেশন পেপার প্রকাশ করেছে আইআরডিএআই, তাতে সব ধরনের বিমা প্রকল্পের জন্য একই হারে কমিশন দেওয়ার প্রচলিত রীতি বদল করে সংশ্লিষ্ট পলিসির জটিলতা এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে তা নির্ধারণের নিদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে সব পলিসি গ্রাহকই আগ্রহী হয়ে কেনায় তাতে এজেন্টদের ভূমিকা তুলনায় অনেকটাই কম থাকে (যেমন থার্ড পার্টি কার ইনশিওরেন্স), সেখানে কমিশন কমানোরও পক্ষপাতী আইআরডিএআই। তাদের দাবি, পলিসিহোল্ডারদের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ‘ডিস্ট্রিবিউশন কস্ট’ কমানোরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫’র মধ্যে বিমাক্ষেত্রে ব্রোকারদের (জেনারেল ইনশিওরেন্স) প্রদেয় মোট কমিশন-এর পরিমাণ বেড়েছে ১৭৩% যেখানে তাঁদের থেকে আসা প্রিমিয়াম বেড়েছে মাত্র ৩৭%। পাশাপাশি এই সময়কালে গড় কমিশনের পরিমাণ ৮.৫% থেকে পৌঁছে গিয়েছে ১৭%। যে অঙ্কগুলিতে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে।
এ বিষয়ে আইবিএআই-এর দাবি, ব্রোকার-এজেন্টদের কমিশন কমিয়ে দিলেই পলিসির প্রিমিয়াম কমে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। সেক্ষেত্রে পুরো লাভটাই বিমা সংস্থার মালিকদের পকেটে ঢুকবে। আর তারপরেও যদি জোর করে কমিশন ক্যাপ চাপিয়ে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে বিমা সংস্থাগুলি এজেন্ট এবং ব্যবসা ধরে রাখতে মার্কেটিং ফি বা অন্য কোনও খাত দেখিয়ে ঘুরপথে তা তুলেই নেবে। সেক্ষেত্রেও নিয়ামকের উদ্দেশ্যসাধন হচ্ছে না। ফলে এ বিষয়ে আরও ভাবনাচিন্তার অবকাশ রয়েছে।
