কালবেলা · রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী
১৮/১০/২০২৬

পদ্মা নদী, হেমন্তের বাতাস আর হিম হিম ঠান্ডার আনাগোনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী। নগরীর পথে পথে রঙের ছোঁয়া, সড়ক বিভাজকে নতুন প্রলেপ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান আর বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে চলছে কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো স্থাপনায় লাগছে নতুন রং, কোথাও চলছে সড়ক সংস্কার। এরমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, আবেগ ও প্রত্যাশা।
আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সফরকালে তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে নগরীর বিমান চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রংমিস্ত্রিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় রং করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এসব কার্যক্রম চলমান উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নির্ধারিত কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নগরী সাজানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের যে কাজ দেখা যাচ্ছে, তা সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রম। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে আমরা চেষ্টা করছি, যেন চলমান কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এটি নতুন কোনো কাজ নয় বরং চলমান কার্যক্রম শেষ করার গতি বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে রাজশাহীবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীসহ রাজশাহীর মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহী সফরের জন্য বেছে নেওয়ায় এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহোৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনের কর্মসূচি রাখায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও নগরবাসীর পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে আবেগ ও প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অলিউল হক রানা বলেন, এটি আমাদের জন্য বিশেষ একটি দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের ঢাকা থেকে বাইরে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এমন কর্মসূচি আমাদের জানা ইতিহাসে বিরল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-কেন্দ্রিক কর্মসূচির বাইরে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতে তার আগমন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে আবেগ ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
অলিউল হক রানা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর এবং জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। মাদ্রাসা মাঠে অতীতেও বহু জনসভা হয়েছে। তবে এবারের আয়োজনকে সফল করতে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও আশপাশের এলাকার নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশাকে ধারণ করেই আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। বিমানবন্দর থেকে কর্মসূচির স্থানগুলোতে যাতায়াতের পথ, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের নির্ধারিত এলাকা এবং মাদ্রাসা মাঠের জনসভাস্থলকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর নিরাপদ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, পিপিএমের নেতৃত্বে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণের স্থান, যাতায়াতের রুট, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং মাদ্রাসা মাঠের জনসভাস্থলকে কেন্দ্র করে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা দল বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
মো. গাজিউর রহমান আরও বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পুরো সফর যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।
অপেক্ষা এখন ২০ অক্টোবরের
নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজশাহী। নগরীর সড়ক থেকে জনসভাস্থল, পূজামণ্ডপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ সবখানেই প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ নগরবাসীর মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এখন অপেক্ষা ২০ অক্টোবরের। সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে রাজশাহী সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় নগরবাসী।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗