শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তারা। এ সময় দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কাজ করবেন বিজিবি সদস্যরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
তিনি বলেন, সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজিবি পরিচালক জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪২৫টি। ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১১৯টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলো ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রায় ২১টি বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
তিনি বলেন, তথ্য আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে বিজিবি সদর দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
দুর্গাপূজা চলাকালে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিজিবি পরিচালক আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন ও উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন পাশে থাকবে। সবার সহযোগিতায় দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
