প্রায় ২৫ বছর ধরে মাছ ধরা কবির হোসেনের অভিযোগ, আগে চাল পেলেও ৫ তারিখের পর থেকে আর পাচ্ছেন না। তার ভাষ্য, জেলে কার্ড থাকার পরও অনেকে সহায়তা থেকে বাদ পড়ছেন। আবার কার্ড নেই, এমন ব্যক্তিরাও চাল পাচ্ছেন।
মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। তবে এ সময়ে অনেক প্রকৃত মৎস্যজীবীর পরিবারে পৌঁছাচ্ছে না সরকারি খাদ্যসহায়তা। কারো জেলে কার্ড থাকলেও মিলছে না চাল, আবার বছরের পর বছর মাছ ধরেও অনেকে পাননি জেলে কার্ড। ফলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার জেলেপল্লীতে অভাব, ঋণ আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বহু পরিবারের।
দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে মাছ ধরেন জালাল খান। তার অভিযোগ, জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সরকারি চাল পাচ্ছেন না তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ায় এখনো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। প্রায় ৬ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাকে। মাছের ব্যবসা চালাতে কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জালাল বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতেন।’
একই এলাকার জেলে বিল্লাল হোসেনের পরিবারের সদস্য বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। ছোটবেলা থেকে সাগরে মাছ ধরলেও সরকারি খাদ্যসহায়তা পান না বলে অভিযোগ তার। বিল্লাল বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য চাল এলেও দিন-রাত সাগরে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা তার ভাগ্যে তা জোটে না। নিষেধাজ্ঞার সময়ে আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
প্রায় ২৫ বছর ধরে মাছ ধরা কবির হোসেনের অভিযোগ, আগে চাল পেলেও ৫ তারিখের পর থেকে আর পাচ্ছেন না। তার ভাষ্য, জেলে কার্ড থাকার পরও অনেকে সহায়তা থেকে বাদ পড়ছেন। আবার কার্ড নেই, এমন ব্যক্তিরাও চাল পাচ্ছেন।
শুধু কার্ডধারীরাই নন, নিবন্ধনের বাইরে থাকায় সহায়তা পাচ্ছেন না দীর্ঘদিনের মৎস্যজীবী দুলাল ফরাজি, নুরে আলম ঘরামি ও মো. ইব্রাহিম। তাদের মধ্যে দুলাল প্রায় ২৭ বছর, নুরে আলম ৩০ বছর এবং ইব্রাহিম ১৫ বছর ধরে মাছ ধরছেন। তাদের অভিযোগ, জেলে তালিকায় নাম না থাকায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কিংবা ৬৫ দিনের সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়েও সরকারি চাল পান না। নিষেধাজ্ঞায় আয় বন্ধ হলেও ঋণ, কিস্তি ও সংসারের খরচ মেটানোর চাপ থাকে।
জেলেদের অভিযোগ, তালিকায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং সহায়তা বিতরণে ঘাটতি থাকায় অনেক পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন মাছ ধরেও যারা কার্ড পাননি, তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা ও কার্ডধারীদের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
১০ বছর আগে তৈরি তালিকা অনুযায়ী জেলেদের সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল নবী। তিনি বলেন, ‘২২ দিনের অবরোধের চাল প্রায় সব ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তৈরি তালিকা অনুযায়ী চাল দেয়া হয়েছে। বাদ পড়া জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে তাদের তালিকাভুক্ত করা হবে।’
