Published on
:
2 min read
৯৬ লক্ষ টাকা ধার দিয়েও ফেরত পাননি, তবু বন্ধুদের পাশে দাঁড়াতে পিছপা হননি সঞ্জীব কুমার। বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। সঞ্জীব কুমার তাঁদেরই একজন। ‘শোলে’, ‘আঁধি’, ‘ত্রিশূল’, ‘কোশিশ’-এর মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। পর্দায় তাঁর অভিনয় যতটা সাবলীল ছিল, বাস্তব জীবনেও তেমনই ছিল তাঁর মানবিক মন। জীবনের প্রথম দিকে অর্থকষ্টে ভুগতে হয়েছিল তাঁকে। অথচ তারকা হওয়ার পরে বন্ধুদের প্রয়োজনে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে দু’বার ভাবেননি তিনি। সম্প্রতি সামনে এসেছে অভিনেতার জীবনের এমনই কিছু অজানা দিক।
অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে সঞ্জীব কুমারের পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। তাঁর বাবার ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। সংসার সামলানোর দায়িত্ব ছিল মায়ের উপর। সেই সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই ছোট-বড় নানা ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করতেন অভিনেতা। এমনকী, কোন ছবি কতটা ভালো বা খারাপ, তা বিচার করার মতো পরিস্থিতিও তাঁর ছিল না। সেই সময় সঞ্জীবের কাছে পরার জন্য মাত্র দু’সেট পোশাক ছিল। অর্থের প্রয়োজনেই যে কাজ পেতেন, তা-ই করতেন তিনি। পরে অবশ্য নিজের অভিনয় দক্ষতায় প্রথম সারির অভিনেতাদের মধ্যে জায়গা করে নেন সঞ্জীব।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা টানাপড়েন। হেমা মালিনী ও নূতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গ নিয়ে চর্চা হয়েছে। পরে অভিনেত্রী সুলক্ষণা পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও জানা যায়। সুলক্ষণা তাঁকে ভীষণ পছন্দ করতেন। কিন্তু সঞ্জীব বিয়েতে রাজি হননি। পাশাপাশি জানা যায়, বন্ধুদের প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই টাকা আর ফেরত পাননি তিনি। নিজের গাড়িচালকের বিয়ের খরচও বহন করেছিলেন সঞ্জীব। এমনকী, মৃত্যুর আগে উইল করার সময়ে চালকের ছেলের পড়াশোনার জন্য দু’লক্ষ টাকা আলাদা করে রেখেছিলেন। অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গেও তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন জানতে পেরে নিজেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সঞ্জীব।
১৯৮৫-তে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন সঞ্জীব কুমার। জীবনের শুরুতে অর্থকষ্ট, ব্যক্তিগত জীবনের একাকিত্ব— সব কিছুর মধ্যেও বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি এই উদারতার গল্প আজও মনে রাখার মতো।
