ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সকে ‘বিপ্লবের উপযুক্ত জায়গা’ বলে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেন, ‘চলো ফ্রান্সে যাই। দারুণ জায়গা! কোনো দাঙ্গা নেই, বিপ্লব নেই। আসলে, ফ্রান্স তো বিপ্লব ঘটানোর জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলো ফ্রান্সে যাই আর বিপ্লবে যোগ দিই।’
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সে বড় ধরনের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর রোববার সকালে দেশটির রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল।
ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসন ও একীভূতকরণ নীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থিরা ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী এনেছেন, কিন্তু তাদের সামাজিকভাবে একীভূত করার বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন।
শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে আয়োজিত দেশজুড়ে পদযাত্রাগুলো শেষ পর্যন্ত রাস্তায় সহিংসতা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
শনিবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অংশ নেন ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি এ সংখ্যা ৮ লাখ বলে দাবি করেছে। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
প্যারিসে গাড়িতে আগুন দেওয়া ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো একটি টাউন হল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্সেই ও লিলে দুটি টাউন হলে ভাঙচুর চালানো হয়। লিওঁতে একটি পর্যটন কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
