রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আরিফপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে শান্তনা বেগম(৫০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। হয়রানি থেকে বাঁচতে ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তনা বেগম নিজেই প্রতিবেশী আঃ সামাদ মিয়ার সঙ্গে ঝগড়ার সৃষ্টি করেন। আসামিপক্ষের অভিযোগ, ওই নারী নিজেই ব্লেড দিয়ে নিজের মাথায় জখম সৃষ্টি করেন এবং সেই জখম নিয়ে সেদিনই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর চারজনকে আসামি করে বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটির বিষয়ে কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই (২১ সেপ্টেম্বর) মিঠাপুকুর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
তবে মামলার এজাহারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বাদীপক্ষের সাক্ষীই। মামলার ২ নম্বর সাক্ষী আবুল কালাম স্বীকার করে বলেন, সেদিন ওই এলাকায় কোনো মারামারির ঘটনাই ঘটেনি। আমাকে জোরপূর্বক বা না জানিয়ে কথিত সাক্ষী বানানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা মামলা। পুলিশ আমার সঙ্গে কথা বলেনি।
ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার দুই ছেলে হারেছ মিয়া,হাসিনুর মিয়া এবং আমার নাবালক নাতি আহাদ মিয়া ও আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আপনারা পুরো গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখুন, কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেছিল কি না। আমাদের হয়রানি করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে। আমরা এখন গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন কোনো সংঘাত হয়নি। সাজানো মামলায় অযথা হয়রানি না করে পুলিশ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এমনটাই দাবি তাদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শান্তনা বেগমের বক্তব্য নিতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, আমি আমার মেয়ে জামাই ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে পারব না। আমার জামাই আপনাকে ফোন দিয়ে কথা বলবেন।
মামলা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব জানান, তদন্তের মাধ্যমেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ভিকটিমের মাথায় কীভাবে জখম হয়েছে, তা হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে।
অন্যদিকে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, মামলাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে আদালতে নিয়মানুযায়ী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
