ফিচার ডেস্ক

অর্থ ও সম্পদের বিস্তার পৃথিবীর মানচিত্রে কখনোই একরকম থাকে না। কোথাও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এতটাই উন্নত যে প্রায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকই কোটিপতির কাছাকাছি পৌঁছে যান, আবার কোথাও গুটিকয়েক মানুষের হাতেই জমা থাকে পাহাড়সমান সম্পদ। সাম্প্রতিক তথ্য ও বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, কিছু ছোট দেশে ধনকুবেরদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। আবার কোনো কোনো বিশাল অর্থনীতির দেশ কোটিপতি তৈরির সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে কোটিপতি (ডলার মিলিয়নেয়ার) হয়েছেন। তবে তাঁদের উপস্থিতি মানচিত্রজুড়ে সমান নয়। কোথাও প্রতি ৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোটিপতি, আবার কোথাও এই সংখ্যাটি তলানিতে। ইউবিএসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্পদ কীভাবে বিভিন্ন সীমান্তে ঘনীভূত হয়েছে তার একটি চিত্র ফুটে ওঠে।
ঘরের কাছে সবাই কোটিপতি সুইজারল্যান্ডে
গড় সম্পদের দিক থেকে সুইজারল্যান্ডের ধারেকাছেও কেউ নেই। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের গড় সম্পদ প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার; যা ১ মিলিয়ন ডলারের মাত্র ৯ শতাংশ বা ৯০ হাজার ডলার কম। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে হিসাব করলে তারা প্রায় ১০ লাখ ডলার স্পর্শ করার কাছাকাছি।
প্রতি ৬ জনে একজন মিলিয়নেয়ার লুক্সেমবার্গে
ক্ষুদ্র দেশগুলোতে সম্পদে ধনকুবেরদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ইউরোপের প্রধান আর্থিক কেন্দ্র লুক্সেমবার্গের ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কই কোটিপতি। সহজ কথায়, একটি নৈশভোজের টেবিলে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক বসলে গড়ে সেখানে অন্তত একজন মিলিয়নেয়ার থাকবেন।
মোনাকোতে প্রতি তিনজনের একজন কোটিপতি
ধনকুবেরদের ঘনত্বের দিক থেকে বিশ্বে মোনাকোর স্থান সবার ওপরে। মোনাকোর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ মিলিয়নেয়ার। মাত্র দুই বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দেশটিতে ধনী ব্যক্তিদের বসবাস দশকের পর দশক ধরে একই রকম জনপ্রিয়।

মধ্যবিত্তের বিপুল সম্পদ বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়াতে
সব ধনকুবের শীর্ষে জমা না হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সম্পদে সমতা থাকার দিক থেকে ভিন্ন গল্প বলে বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ সালের হিসাবে, প্রতি প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যমা সম্পদে বিশ্বে বেলজিয়াম দ্বিতীয় এবং অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া শুধু সাধারণ মানুষের সম্পদের দিক দিয়েই এগিয়ে নেই, দেশটি ২০২৫ সালে আরও ২৫ হাজার নতুন কোটিপতি তৈরি করেছে।
সংখ্যায় পৃথিবীর শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
ঘনত্বের দিক থেকে ছোট দেশগুলো এগিয়ে থাকলেও, মোট কোটিপতির সংখ্যার বিচারে যুক্তরাষ্ট্র সবার থেকে অনেক দূরে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৩৬ লাখ মিলিয়নেয়ার রয়েছেন। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন হওয়া ১০ লাখ মিলিয়নেয়ারের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজারই তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ‘১,২০০ জন নতুন কোটিপতি’ তৈরি হয়েছেন।
এশিয়ার শীর্ষ দুই আর্থিক কেন্দ্র হংকং ও সিঙ্গাপুর
এশিয়ার দুটি কমপ্যাক্ট বা ছোট শহর-রাষ্ট্র ধনকুবেরদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করছে। ২০২৫ সাল নাগাদ হংকংয়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার জনে। এদিকে বিশ্বের চতুর্থ ধনী শহরের তকমা পাওয়া সিঙ্গাপুরে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ জন মিলিয়নেয়ার এবং ৫৫ জন বিলিয়নেয়ার (শতকোটিপতি) বাস করেন।
বিশ্বের কোটিপতিদের এই গল্প শুধু আকারের নয়, বরং ঘনত্বের। সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ এবং মোনাকোর মতো ছোট রাষ্ট্রগুলো দেখায় কীভাবে একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে সম্পদ ঘনীভূত হয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করে একটি বিশাল বড় অর্থনীতি কীভাবে বিশ্বজুড়ে ধনী সৃষ্টির নেতৃত্ব দিতে পারে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ

