বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়ন ও পৌর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দ্বৈত ভূমিকার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের দলীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা সত্ত্বেও এক প্রবাসী নেতার বিএনপির মনোনয়ন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য জোর লবিং ও দৌড়ঝাঁপের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবীদ্বার উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ১৫ নম্বর ক্রমিকে ‘তথ্য ও গবেষণা পাঠাগার সম্পাদক’ হিসেবে নাম রয়েছে প্রবাসী নেতা মহিউদ্দিনের। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি কৌশলে বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় লবিং ব্যবহার করে আগামী নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েলের একটি অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রবাসী নেতার উপস্থিতি সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানটির একটি ছবিতে দেখা যায়— বামে বসে আছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমু, মাঝে বসে আছেন অভিযুক্ত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন এবং ডানে অবস্থান করছেন সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল। একই সাথে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতার সাথে ফটোসেশন, আবার অন্যদিকে বিএনপির টিকিট পাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে লবিং চালিয়ে যাওয়া— মহিউদ্দিনের এমন ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এই মহিউদ্দিন মূলত সাবেক সংসদ সদস্য রাজিব মুন্সির এজেন্ট বা দোসর হিসেবে কাজ করছেন। আগামীতে সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার বাসনায় তিনি এখন থেকেই এলাকায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ছড়িয়ে ভোট কেনার এক ‘গুপ্ত মিশন’ বা অপতৎপরতায় নেমেছেন। বিএনপির স্থানীয় ত্যাগী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, “আওয়ামী লীগের এই দোসররা যেন কোনোভাবেই বিএনপিতে ঠাঁই না পায়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত এই অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি কঠোর নজর রাখা উচিত ।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
