আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার পথে আটক হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইসা সভাপতি নেহা বোরা।
বৃহস্পতিবার আদালতে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাকের সঙ্গে নেহার কোনও যোগ ছিল না। তিনি এমন কোনও কাজও করেননি, যা শান্তিভঙ্গের কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর দিল্লির মান্ডি হাউসের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছিল নেহাকে। পরের দিন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর পর ১৮ অক্টোবর তাঁর কাছে একটি নোটিস পাঠানো হয়।
সেই নোটিসে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, শান্তি বজায় রাখার শর্তও আরোপ করা হয়। এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন আইসা সভাপতি।
নেহার বিরুদ্ধে জারি করা নোটিসে দিল্লির যন্তর মন্তরের আশপাশে বারবার বিক্ষোভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। যন্তর মন্তরকে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও নেহা সাধারণ মানুষকে কনট প্লেসে যাওয়ার জন্য উসকানি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নেহার বক্তব্য, তিনি শুধু কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শান্তিভঙ্গ করার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
নেহার হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তাঁর দাবি, ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মান্ডি হাউসে পৌঁছনোর মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই নেহাকে আটক করা হয়।
ওই দিন তিনি এমন কোনও অপরাধ করেননি, যার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা যেতে পারে। উল্লেখ্য, অভিজিৎ দীপকের ডাকা ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন নেহা।
সেই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। মিছিলে যাওয়ার পথেই ১৬ অক্টোবর তাঁকে আটক হয়। পরের দিন মুক্তি পান তিনি। আদালতে আবেদন করে নেহার আইনজীবী জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করার জন্য প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
এর ফলে বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার, শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত করার অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি চলছে। নেহার বিরুদ্ধে জারি করা নোটিস এবং প্রতিরোধমূলক হেফাজতের বৈধতা খতিয়ে দেখছে আদালত।
