পুজোর শহরে প্রাণহানি! উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভয়াবহ ভিড়ের চাপে ১৯ জনের মৃত্যু। শনিবার রাতের বিভীষিকাময় ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ। উৎসবের আনন্দ ঢেকেছে বিষাদের সুরে। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পুজো কমিটির ব্যবস্থাপনা। এহেন মর্মান্তিক ঘটনায় আতঙ্কিত গোটা শহর। শোকের রেশে ডুবে টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়াও। আমজনতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেলেবমহল। কেউ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন, তো কেউ বা ‘চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থা’ নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
“একটি ৭ বছরের শিশুরও প্রাণ গিয়েছে। হাহাকার করছে অনেকগুলো মানুষ, আপনারই শহরে।… দয়া করে প্যান্ডেলে গানবাজনাগুলো খানিকক্ষণের জন্য বন্ধ করা যায় না?”
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শোকজ্ঞাপন করে অভিনেতার মন্তব্য, “উৎসবের আনন্দ মুহূর্ত এমন বিষাদে ঢেকে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারছি না। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীরতম সমবেদনা জানাচ্ছি। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” ‘চোরবাগান সর্বজনীন’ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য হেল্পলাইন নম্বর ভাগ করে নিয়ে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বার্তা, “অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আহতরা প্রত্যেকে দ্রুত সুস্থ হোন, চিকিৎসকদের উপর শেষ ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। যারা স্বজন হারালেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই, অভিশপ্ত দিন আজ।”
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রশাসন আর কর্মকর্তাদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী। অন্যদিকে শহরে এহেন বিভীষিকাময় কাণ্ডের আবহে সহ-নাগরিকদের শিষ্টাচারের পাঠ দিয়ে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, মাইকগুলো বন্ধ করা যায় না একটু? আপনার শহরে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ১৯ জন একসঙ্গে মৃত। একটি ৭ বছরের শিশুরও প্রাণ গিয়েছে। হাহাকার করছে অনেকগুলো মানুষ, আপনারই শহরে। হাসপাতালে লড়ছে আরও অনেকজন। দয়া করে প্যান্ডেলে গানবাজনাগুলো খানিকক্ষণের জন্য বন্ধ করা যায় না?” ইনস্টা স্টোরিতে মিমি চক্রবর্তীর শোকবার্তা, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় যে বা যাঁরা দুর্ভোগের শিকার, তাঁদের সকলের জন্য প্রার্থনা করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। জীবন সত্যিই বড় অনিশ্চিত! এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর সকলকে শক্তি দিন।’
“একদিকে পুলিশ বুলডোজার দিয়ে বইয়ের স্টল ভাঙতে চাইছে আর পুজোর দর্শনার্থীরা পদপিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছেন? হচ্ছেটা কী?”
পুজোর কলকাতায় এহেন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনের চরম অবহেলাকেই দায়ী করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বোন তথা পোশাকশিল্পী অজোপা মুখোপাধ্যায়। অগ্নিমিত্রা পালকে ট্যাগ করে তাঁর প্রশ্ন, “ব্রিজ রং করে কি হবে? সৌন্দর্য বাড়াচ্ছ? এরকম তো আগে আমরা দেখিনি! প্রত্যেক বছর পুজোয় বৃষ্টি হয়, এটা কীভাবে হতে পারে? আমরা বাচ্চাদের কীভাবে একা পুজোতে বেরোতে দেব?” চোরবাগান সর্বজনীন কাণ্ডের আবহে বামেদের স্টল ভাঙা নিয়ে খোঁচা দিয়ে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, “এ আমরা কোথায় বাস করছি? একদিকে পুলিশ বুলডোজার দিয়ে বইয়ের স্টল ভাঙতে চাইছে আর পুজোর দর্শনার্থীরা পদপিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছেন? হচ্ছেটা কী?” এই একই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রাজ্য সরকারের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন পরিচালক সৌরভ পালোধীও। তাঁর মন্তব্য, “বইয়ের স্টল ভাঙতে বিজেপির বুলডোজার। দুর্গাপুজোকে অশান্ত করতে মরিয়া বিজেপি। এর শেষ খুব খারাপ হবে এদের। তৃণমূলের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে এদের। মিলিয়ে নেবেন। বইয়ের ওপর আঘাত। আমাদের শিল্পী মহল চুপ। শুধু বিজেপির পা চাটবে বলে। ছি! এদিকে চোরবাগানে মানুষ পদপিষ্ট। এ কেমন দুর্গাপুজো?”
