নিজস্ব ছবি এই সময়
Published on
:
2 min read
এই সময়: তুলনা টানতে বর্ষামঙ্গলের লাইনটি খুবই প্রাসঙ্গিক, 'ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে…।' যবে থেকে জিয়োর ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) বাজারে আসার কথা ঘোষণা হয়েছে, তবে থেকেই প্রত্যাশার পারদ একটু একটু করে চড়ছিল লগ্নিকারীদের মনে। নিজের পোর্টফোলিও'তে জিয়োর শেয়ার থাকার মর্ম কমবেশি বোঝেন সব লগ্নিকারীই।
যে আগ্রহের দরুণ অশ্বমেধের ঘোড়ার গতিতে ছুটে ভারতের শেয়ারবাজারে আসা অন্য সব সংস্থার আইপিও'র আগের একাধিক নজিরকে পিছনে ফেলে দিয়ে রেকর্ডের মগডালে উঠে পড়ল জিয়ো প্ল্যাটফর্মস-এর এই আইপিও। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার ২৬ অক্টোবর শেয়ার বণ্টন হওয়ার কথা। পরের দিন যা বিনিয়োগকারীদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এবং বুধবার, ২৮ অক্টোবর, বিএসই ও এনএসইতে নথিভুক্ত হওয়ার কথা জিয়ো প্ল্যাটফর্মস-এর শেয়ারের।
দালাল স্ট্রিট তো দূরের কথা। পরিসংখ্যান বলছে, টেক থেকে এফএমসিজি, এর আগে বিশ্ব মানচিত্রের এ-মাথা থেকে ও-মাথা কোথাও কোনও গোত্রের কোনও সংস্থাই এ হেন 'ক্রেজ়' দেখেনি, যেখানে তাদের শেয়ার কেনার জন্য জমা পড়া আবেদনপত্রের সংখ্যা কোটির ঘর ছুঁয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ক্যাটিগরি মিলিয়ে প্রায় ১.৩৮ কোটি আবেদনপত্র জমা পড়েছে জিয়োর শেয়ার পকেটে পোরার জন্য। এর আগে আইপিওতে সবচেয়ে বেশি আবেদনের রেকর্ড ছিল ওয়ারি এনার্জিসের দখলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সংস্থাটির আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছিল ৯৭.৩ লক্ষ। জিয়োর আইপিও সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে প্রায় ৪২ শতাংশের ব্যবধানে।
উল্লেখ্য, প্রথম দিনেই জিয়োর আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৩০.৫ লক্ষ। দ্বিতীয় দিনের শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ লক্ষেরও বেশি। শেষ দিনে আবেদনের গতি আরও বেড়ে পৌঁছে যায় সর্বকালীন রেকর্ড স্তরে। যে দিনটি সংস্থার জন্য অন্য মানে রাখে আরও একটি কারণে। ঘটনাচক্রে ২৩ অক্টোবর জিয়ো প্ল্যাটফর্মস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানির জন্মদিন, যে দিন ইতিহাসের শরিক হয়ে গেল তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থা।
যে ইতিহাস ছোঁয়া কতটা শক্ত, তার একটা অনুমান পেতে পারেন এই উদাহরণ থেকে—২১ অক্টোবর আইপিও'র আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হওয়ার ১০০ মিনিটের আগেই 'ফুল-সাবস্ক্রিপশন' হয়ে গিয়েছিল। যা থেকে বোঝা যায়, দেশজুড়ে উৎসবের আবহের মধ্যেও লগ্নিকারীদের মনে কতটা উন্মাদনা ছিল জিয়োর আইপিও পাওয়া নিয়ে। জিয়োর মতো মেগা-আইপিও'র ক্ষেত্রে এত কম সময়ে 'ফুল-সাবস্ক্রিপশন' হয়ে যাওয়ার নজির এর আগে নেই। সংস্থার ৩০,২১৩ কোটি টাকার এই আইপিওতে মোট দরপত্রের অঙ্ক পৌঁছেছে প্রায় ৭.৪০ লক্ষ কোটি টাকায়। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর'দের দেওয়া দরপত্রও।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে দেখা যায়, আইপিওটি'তে ২২ গুণেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর'দের বাদ দিলে বাকিদের থেকে পাওয়া দরপত্রের অঙ্ক প্রায় ৪.৯০ লক্ষ কোটি টাকা। অন্য দিকে, অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর'দের থেকে এসেছে প্রায় ২.৫০ লক্ষ কোটি টাকা।
জিয়োর আইপিও ঘিরে খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কতটা উৎসাহ ছিল তার প্রমাণ দিচ্ছে, এই শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা প্রায় ৮.৫ কোটি শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২৩ কোটিরও বেশি বা ২.৭২ গুণ। যার জেরে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, কত জন বিনিয়োগকারী তাঁদের প্রত্যাশিত অঙ্কের শেয়ার পাবেন?
জিয়োর আইপিওতে তুমুল সাড়া দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও। তাঁদের জন্য সংরক্ষিত অংশে আবেদন জমা পড়েছে ৭০.৫৫ গুণ। অন্য দিকে, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশে আবেদন জমা পড়েছে ১৪ গুণ। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষিত অংশে এই হার ৭.৬০ গুণ। জিয়োর কর্মীদের জন্য রাখা অংশে আবেদন জমা পড়েছে ২.৯৩ গুণ। এখন অপেক্ষা কার ভাগে আসে কতটা?
