বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক বা সভাপতি পদে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূল সময়ে ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকমান্ড নতুন করে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারে বলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে রেখে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটে নতুন গতি সঞ্চারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব অন্যতম। শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে রাজধানীতে মিছিল ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতা তাঁকে নেতৃত্বের আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এ নেতা। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে আস্থাশীল হিসেবে পরিচিত সাইফুল আলম নীরব। মহানগরের নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, দলীয়ভাবে বিশ্বস্ত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের দিয়ে মহানগরের নেতৃত্ব সাজানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাইফুল আলম নীরবের মতো নেতার হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠনে নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ ছাত্রনেতা ও এ এফ রহমান হলের সাবেক নির্বাচিত ভিপি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। মহানগরজুড়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মামুন হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নামও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
উল্লেখ্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় কিছু বিতর্কিত ঘটনায় নাম আসার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শাখার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয় এবং কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। ওই ঘটনার পর নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফেরানোর তাগিদ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতেই দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংগঠনে এই পুনর্গঠন অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি আশাবাদী যে নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী, অনুগত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন।”
তবে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
