নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। শারদীয় দুর্গাপূজার পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এ পূজা উদ্যাপন করা হয়। ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনায় ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। পূজার পাশাপাশি অনেক ভক্ত এ রাতে জাগরণ করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে।
শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। তাঁকে উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থসহ সব শ্রেণির মানুষ দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে আসছেন।
কোজাগরী শব্দের অর্থ ‘কে জেগে আছো’। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিনী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আসেন এবং ধনধান্যে সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দেন। এ রাতে যারা জেগে থেকে দেবীর আরাধনা করেন, তাদের প্রতি দেবী প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস করা হয়। এ কারণেই কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় রাত জাগরণের প্রচলন রয়েছে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় ঘট বা প্রতিমায় দেবীর পূজা করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে ঘরে ঘরে যেমন এ পূজার আয়োজন করা হয়, তেমনি কোথাও কোথাও সর্বজনীনভাবেও পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও জল। এ উপলক্ষে অনেক বাড়ির আঙিনায় চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা হয় আলপনা। আলপনায় ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ। ঘরে ঘরে সাজানো হয় মঙ্গলঘট ও ধানের ছড়া।
লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক নারী-পুরুষ উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা হয় নানা উপাচার। লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কাহিনি পাঁচালি আকারে পাঠ করার রীতিও রয়েছে। একে বলা হয় লক্ষ্মীর পাঁচালি।
কোজাগরী পূর্ণিমা ছাড়াও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে প্রতি বৃহস্পতিবার দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করেন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজার প্রচলন রয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুর সহধর্মিণী। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করলে লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। দেবীর বাহন প্যাঁচা।
বাঙালি হিন্দু পরিবারের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লক্ষ্মীপূজা। দেবীর কাছে সুখ, শান্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে ভক্তরা প্রতিবছর এ পূজা পালন করেন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
